Machher Kanta: মাছের কাঁটার ঝামেলা কমবে রান্নার আগেই! লেবুর এই কৌশলে ছোট কাঁটা নরম হতে পারে, রইল সহজ পদ্ধতি

মাছের কাঁটার ঝামেলা কমাতে রান্নার আগে লেবুর রস ব্যবহারের ঘরোয়া কৌশল জানুন। ছোট কাঁটা নরম হতে পারে, তবে সব কাঁটা গলে যায় না।

বাঙালির পাতে মাছ থাকলে জমে যায় দুপুর বা রাতের খাবার। কিন্তু মাছের কাঁটা বেছে খাওয়ার ঝামেলার কারণে অনেকেই মাছ এড়িয়ে চলেন। বিশেষ করে বাড়িতে শিশু থাকলে মাছের কাঁটা নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে রান্নার আগে মাছ প্রস্তুত করার একটি সহজ কৌশল কাজে লাগানো যেতে পারে। লেবুর রস দিয়ে মাছ কিছুক্ষণ মেরিনেট করে রাখলে ছোট ও সূক্ষ্ম কাঁটার শক্তভাব কিছুটা নরম হতে পারে। এরপর ঠিকমতো রান্না করলে কাঁটার ঝামেলা কমানো সম্ভব।

প্রথমে মাছের গায়ে দিতে হবে লেবুর রস

প্রথমে মাছ পরিষ্কার করে পছন্দমতো টুকরো করে নিন। কই, বাটা বা ছোট কাঁটাযুক্ত মাছ হলে গায়ে কয়েকটি হালকা চিরে দিতে পারেন। বড় মাছ হলে তুলনামূলক পাতলা টুকরো করে নেওয়া যায়।এরপর মাছের প্রতিটি টুকরোয় ভালোভাবে লেবুর রস মাখিয়ে দিন। প্রদত্ত পদ্ধতিতে প্রায় ২৫০ গ্রাম মাছের জন্য একটি বড় লেবুর রস ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

অন্তত এক ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন

লেবুর রস মাখানো মাছ কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে, যাতে রস মাছের ভিতরের অংশেও পৌঁছতে পারে। এই পদ্ধতিতে অন্তত এক ঘণ্টা রেখে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।এরপর মাছ ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে লবণ ও প্রয়োজনীয় মশলা মাখিয়ে রান্না করতে পারেন।

কাঁটা কি সত্যিই গলে যায়?

এখানেই রয়েছে আসল বিষয়। লেবুর রসে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড মাছের কাঁটার খনিজ উপাদানের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। ফলে ছোট ও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম কাঁটার শক্তভাব কিছুটা কমতে পারে।তবে এর অর্থ এই নয় যে লেবুর রস মাছের সমস্ত কাঁটা সম্পূর্ণ গলিয়ে দেয়। বড় বা শক্ত কাঁটা থেকে যেতে পারে। তাই রান্নার পরেও মাছ খাওয়ার সময় কাঁটা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।

এরপর কীভাবে রান্না করবেন?

লেবুর রসে মেরিনেট করার পর মাছ ধুয়ে মশলা মাখিয়ে ভেজে নিতে পারেন। ভালোভাবে রান্না করা ছোট মাছ বা পাতলা টুকরোর ক্ষেত্রে কাঁটার শক্তভাব কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে।চাইলে এই মাছ দিয়ে পরে ভুনা, ঝোল বা অন্য কোনও রান্নাও করা যায়। তবে কোন রান্নায় কাঁটা কতটা নরম হবে, তা মাছের ধরন, কাঁটার আকার এবং রান্নার পদ্ধতির উপর নির্ভর করবে।

শিশুদের মাছ খাওয়ানোর সময় আরও সতর্ক থাকুন

শিশুদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিকে কাঁটা সম্পূর্ণ নিরাপদ করে দেওয়ার উপায় হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। মাছ পরিবেশনের আগে হাতে করে কাঁটা বেছে নেওয়া এবং শিশুকে খাওয়ানোর সময় নজর রাখা জরুরি।বিশেষ করে বড়, শক্ত বা ধারালো কাঁটা থাকলে তা অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে।

গলায় কাঁটা আটকে গেলে কী করবেন?

মাছের কাঁটা গলায় আটকে গেলে জোর করে ভাত, রুটি বা অন্য কোনও খাবার গিলে কাঁটা নামানোর চেষ্টা না করাই নিরাপদ। কাঁটা গভীরে আটকে থাকলে বা তীব্র ব্যথা, রক্তপাত, গিলতে সমস্যা কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।লেবুর রস দিয়ে মাছ আগে থেকে প্রস্তুত করলেও গলায় আটকে যাওয়া কাঁটা পরে গলিয়ে দেওয়ার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

মাছ খেতে গিয়ে কাঁটার ভয় অনেকেরই থাকে। বিশেষ করে শিশুদের মাছ খাওয়ানোর সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। মাছ রান্নার আগে লেবুর রস মাখিয়ে রাখার একটি প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে, যা ছোট কাঁটার শক্তভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এতে সব কাঁটা পুরোপুরি গলে যায় না।

Leave a comment