বিনিয়োগ শুরু করতে সব সময় বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত অল্প অল্প করে সঞ্চয় করেও ভবিষ্যতের জন্য ভালো তহবিল তৈরি করা সম্ভব। বর্তমানে সেই লক্ষ্য পূরণের অন্যতম জনপ্রিয় উপায় হল সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা SIP। প্রতি মাসে মাত্র ১,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ২০ বছর অপেক্ষা করলে কত টাকা জমতে পারে? জেনে নিন সম্পূর্ণ হিসাব এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে কম্পাউন্ডিংয়ের গুরুত্ব।
মাসে ১,০০০ টাকা বিনিয়োগে ২০ বছরে কত জমবে?
প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে SIP করলে বছরে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২,০০০ টাকা। এভাবে টানা ২০ বছর বিনিয়োগ চালিয়ে গেলে নিজের পকেট থেকে মোট জমা হবে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। তবে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রিটার্ন যোগ হওয়ায় মেয়াদ শেষে তহবিলের পরিমাণ বিনিয়োগ করা টাকার তুলনায় অনেকটাই বেশি হতে পারে।
১০ শতাংশ রিটার্ন পেলে কত টাকা পাবেন?
ধরা যাক, আপনার SIP থেকে দীর্ঘমেয়াদে গড়ে বছরে ১০ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া গেল। সে ক্ষেত্রে ২০ বছর পর আনুমানিক ৭.৬ লক্ষ টাকার তহবিল তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, মোট বিনিয়োগ ২.৪০ লক্ষ টাকা হলে সম্ভাব্য লাভ হতে পারে প্রায় ৫.২ লক্ষ টাকা।
১২ শতাংশ রিটার্নে তহবিল পৌঁছতে পারে প্রায় ১০ লক্ষ টাকায়
এবার যদি বার্ষিক গড় রিটার্ন ১২ শতাংশ হয়, তাহলে একই সময়ে মাসিক ১,০০০ টাকার SIP থেকে আনুমানিক ৯.৯ লক্ষ টাকার তহবিল তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ থাকবে ২.৪০ লক্ষ টাকা এবং সম্ভাব্য লাভ হতে পারে প্রায় ৭.৫ লক্ষ টাকা।এখানে মনে রাখতে হবে, এই হিসাবগুলি মাসের শেষে বিনিয়োগ এবং মাসিক চক্রবৃদ্ধি রিটার্নের আনুমানিক সূত্র ধরে করা হয়েছে। প্রকৃত রিটার্ন, বিনিয়োগের সময় এবং অন্যান্য খরচের কারণে চূড়ান্ত অঙ্কে পার্থক্য হতে পারে।
কম্পাউন্ডিং কীভাবে বাড়ায় বিনিয়োগের মূল্য?
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে কম্পাউন্ডিং বা চক্রবৃদ্ধির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগের উপর অর্জিত রিটার্ন পরবর্তী সময়ে আরও রিটার্ন তৈরির সুযোগ করে দেয়। ফলে সময় যত বাড়ে, ততই বিনিয়োগের সম্ভাব্য মূল্য বাড়তে পারে।তবে শুধুমাত্র বেশি রিটার্নের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ ফান্ড বেছে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ ফান্ডে বেশি ওঠানামা হতে পারে। নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং বিনিয়োগের সময়সীমা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
অল্প টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করার সুবিধা
অনেকেই আয় বাড়ার অপেক্ষায় বিনিয়োগ শুরু করতে দেরি করেন। অথচ সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প টাকা দিয়ে শুরু করলে নিয়মিত বিনিয়োগের অভ্যাস তৈরি হতে পারে। পরবর্তীকালে আয় বাড়লে মাসিক SIP-র পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব।যেমন, প্রথমে ১,০০০ টাকা দিয়ে শুরু করে পরে ১,৫০০ বা ২,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তবে মাসিক বিনিয়োগের অঙ্ক বাড়ানোর আগে জরুরি খরচ, ঋণ পরিশোধ এবং আপৎকালীন সঞ্চয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।
অল্প টাকা দিয়েও দীর্ঘমেয়াদে বড় তহবিল গড়ে তোলা সম্ভব। প্রতি মাসে মাত্র ১,০০০ টাকা করে SIP-তে বিনিয়োগ করলে ২০ বছরে মোট বিনিয়োগ হবে ২.৪০ লক্ষ টাকা। সম্ভাব্য ১০ শতাংশ বার্ষিক রিটার্নের ভিত্তিতে তহবিলের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৭.৬ লক্ষ টাকা, আর ১২ শতাংশ রিটার্নে তা প্রায় ৯.৯ লক্ষ টাকায় পৌঁছতে পারে। তবে মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন বাজারের ওঠানামার উপর নির্ভরশীল, তাই এই অঙ্কগুলি নিশ্চিত নয়।












