শুনানির নামে হয়রানি বন্ধে বড় সিদ্ধান্ত, সন্ন্যাসী-যৌনকর্মী ও আদিবাসীদের বিশেষ ছাড় নির্বাচন কমিশনের

ভোটার তালিকা সংশোধনে হয়রানি বন্ধে বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের। আদিবাসী, যৌনকর্মী ও সন্ন্যাসীদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে শুনানি নেওয়ার নির্দেশ।

ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। আদিবাসী, যৌনকর্মী ও সন্ন্যাসীদের ক্ষেত্রে শুনানির নিয়মে শিথিলতা এনে কমিশন নির্দেশ দিয়েছে—প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়েই শুনানি নিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।

SIR প্রক্রিয়ায় বাড়ছিল উদ্বেগ

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজ্যের একাধিক প্রান্তিক গোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। যৌনকর্মী, আদিবাসী ও সন্ন্যাসীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়—প্রয়োজনীয় নথির অভাবে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বা যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আশ্রম বা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

নথির অভাবেই মূল সংকট

যৌনকর্মীদের বড় অংশ সামাজিক কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। ফলে জন্মস্থান বা পারিবারিক নথি জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। একই পরিস্থিতি অনেক আদিবাসীর ক্ষেত্রেও। প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসের কারণে বৈধ ভোটার হলেও পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের মতো কাগজ তাঁদের কাছে থাকে না। সন্ন্যাসীদের ক্ষেত্রেও সমস্যা আলাদা—আশ্রমবাসী হওয়ায় অনেক সময় একাধিক ব্যক্তির বাবার নাম এক হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

বাড়িতে গিয়ে শুনানির নির্দেশ

এই পরিস্থিতিতে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যৌনকর্মী, দুর্বল আদিবাসী গোষ্ঠী (PVTG), আশ্রমবাসী সন্ন্যাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর ভোটারদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে শুনানি নেওয়া হবে। সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী জানিয়েছেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে সম্পর্ক দেখাতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচন আধিকারিক সরেজমিনে গিয়ে যাচাই করবেন।

ভিডিও রেকর্ড ও স্থানীয় তথ্য যাচাই

নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শুনানির সময় আধিকারিকরা স্থানীয় বিএলএ-দের সঙ্গে কথা বলবেন, প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহ করবেন এবং পুরো প্রক্রিয়া ভিডিও রেকর্ড করবেন। নির্দিষ্ট এলাকা, গ্রাম বা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমেই ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

রাজনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ

এই বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই আন্দোলন করছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। পাশাপাশি, যৌনকর্মী ও তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠন বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চিঠি দিয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই চাপের ফলেই কমিশনকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় হয়রানি এড়াতে আদিবাসী, যৌনকর্মী ও সন্ন্যাসীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়েই শুনানি নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

Leave a comment