Smartphone Tips: নতুন ফোন কিনছেন? RAM-স্টোরেজ নয়, দোকানেই এই ৭টি জিনিস পরীক্ষা করে তবেই টাকা দিন

নতুন স্মার্টফোন কিনছেন? শুধু RAM ও ক্যামেরা নয়, প্রসেসর, ডিসপ্লে, ব্যাটারি, 5G, সফটওয়্যার ও ওয়ারেন্টি-সহ এই ৭টি বিষয় দোকানেই যাচাই করুন।

স্মার্টফোন এখন শুধু ফোনে কথা বলার যন্ত্র নয়। ছবি তোলা থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং, অফিসের কাজ, অনলাইন শপিং—প্রায় সবকিছুতেই এর ব্যবহার রয়েছে। তাই নতুন ফোন কেনার সময় শুধু বেশি RAM বা বেশি মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দেখলে চলবে না। ফোন হাতে নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করাও দরকার।

প্রসেসর কেমন, আগে সেটাই বুঝুন

ফোনে বেশি RAM থাকলেই যে সেটি দ্রুত কাজ করবে, এমনটা নয়। ডিভাইসের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে প্রসেসর বা চিপসেটের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই ফোন কেনার আগে কোন প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে, তার ক্ষমতা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে পারফরম্যান্স সম্পর্কে জেনে নিন। গেমিং বা ভিডিও এডিটিংয়ের মতো ভারী কাজ করলে বিশেষভাবে প্রসেসরের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

শুধু মেগাপিক্সেল দেখে ক্যামেরা কিনবেন না

১০৮MP বা ২০০MP ক্যামেরা দেখেই কোনও ফোনের ক্যামেরা দুর্দান্ত ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ছবির মান নির্ভর করে সেন্সরের আকার, লেন্স, ইমেজ প্রসেসিং এবং OIS-এর মতো প্রযুক্তির উপরও। দোকানে সম্ভব হলে ক্যামেরা খুলে ছবি তুলে দেখুন। ভিডিও করলে রেকর্ডিংয়ের রেজোলিউশন এবং স্টেবিলাইজেশনও পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

ডিসপ্লে চোখে দেখে যাচাই করুন

স্ক্রিনের সাইজের পাশাপাশি ডিসপ্লের ধরন, রেজোলিউশন, ব্রাইটনেস এবং রিফ্রেশ রেট দেখে নিন। AMOLED ডিসপ্লেতে সাধারণত ভালো কনট্রাস্ট ও গভীর কালো রং পাওয়া যায়। আবার বেশি রিফ্রেশ রেট স্ক্রলিংকে মসৃণ করতে পারে। তবে উচ্চ রিফ্রেশ রেট ব্যবহারে ব্যাটারি খরচও বাড়তে পারে। দোকানে ফোনের স্ক্রিন বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখে নিন।

সফটওয়্যার আপডেট কতদিন মিলবে?

ফোন কেনার আগে সংস্থাটি কত বছর Android বা iOS আপডেট এবং সিকিউরিটি প্যাচ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা জেনে নিন। দীর্ঘ সময় সফটওয়্যার সাপোর্ট পাওয়া গেলে ফোনটি বেশি দিন নিরাপদে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি ফোনে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা ব্লোটওয়্যার কতটা রয়েছে, সেটিও দেখে নেওয়া ভালো।

ব্যাটারি ও চার্জিং ব্যবস্থা যাচাই করুন

শুধু ব্যাটারির mAh দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী প্রকৃত ব্যাকআপ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ব্যাটারির ক্ষমতার পাশাপাশি চার্জিং স্পিড, চার্জার বক্সে দেওয়া হচ্ছে কি না এবং কোন চার্জিং স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করা হয়েছে, তা জেনে নিন। ফাস্ট চার্জিংয়ের সময় ফোন অতিরিক্ত গরম হয় কি না, সেটিও খেয়াল করা যেতে পারে।

স্টোরেজের পাশাপাশি 5G ও কানেক্টিভিটি দেখুন

ছবি, ভিডিও এবং অ্যাপের কারণে ফোনের স্টোরেজ দ্রুত ভর্তি হয়ে যেতে পারে। সাধারণ ব্যবহারে ১২৮GB অনেকের জন্য যথেষ্ট হলেও বেশি ছবি বা ভিডিও রাখলে ২৫৬GB বা তার বেশি স্টোরেজ প্রয়োজন হতে পারে। এর পাশাপাশি ফোনে প্রয়োজনীয় 5G ব্যান্ড, Wi-Fi, Bluetooth, NFC বা eSIM সাপোর্ট রয়েছে কি না, সেটিও নিজের ব্যবহারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে নিন।

ফোনের গঠন, ওয়ারেন্টি ও সার্ভিসের তথ্য নিন

ফোন হাতে নিয়ে এর বিল্ড কোয়ালিটি পরীক্ষা করুন। ফ্রেমের উপাদান, স্ক্রিন প্রোটেকশন এবং IP রেটিং থাকলে সেটিও দেখে নিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ফোনের ওয়ারেন্টির শর্ত, কাছাকাছি সার্ভিস সেন্টার এবং স্ক্রিন বা ব্যাটারি পরিবর্তনের সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে আগে থেকে জেনে রাখুন। কারণ কম দামে ফোন কিনলেও ভবিষ্যতে মেরামতের খরচ বেশি হলে মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে।

নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় শুধু RAM, ক্যামেরা বা ফোনের ডিজাইন দেখলেই হবে না। প্রসেসর, ডিসপ্লে, ব্যাটারি, সফটওয়্যার, কানেক্টিভিটি, বিল্ড কোয়ালিটি এবং ওয়ারেন্টির মতো বিষয়ও যাচাই করা জরুরি। দোকান থেকে ফোন কেনার আগে এই বিষয়গুলি দেখে নিলে পরবর্তীতে সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা কমতে পারে।

Leave a comment