রাতে ঘুমের মধ্যেই সাপের ছোবল! কালাচের আতঙ্ক ঠেকাতে জন্মদিনে অভিনব উদ্যোগ, মশারি বিলিয়ে সচেতন করলেন বর্ধমানের যুবক

কেক কেটে নয়, জন্মদিনে দুঃস্থ পরিবারকে মশারি ও শিশুদের পোশাক দিলেন পূর্ব বর্ধমানের অর্ণব দাস। কালাচের কামড় নিয়ে সচেতনতা, পথপ্রাণীদের খাবার ও গাছ লাগানোর উদ্যোগের খবর জানুন।

জন্মদিন মানেই আনন্দ, কেক আর বন্ধু-পরিজনের সঙ্গে উদযাপন। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের অর্ণব দাস নিজের বিশেষ দিনটিকে বেছে নিলেন অন্যরকম কাজে। সাপের উপদ্রব রয়েছে এমন এলাকার মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তিনি প্রায় ১০টি মশারি বিতরণ করেন। পাশাপাশি কালাচের মতো বিষধর সাপের কামড় নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয় এবং সাপে কাটলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জন্মদিনে দুঃস্থ পরিবারের পাশে

নিজের জন্মদিনকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি পূর্ব বর্ধমানের এই যুবক। দুঃস্থ পরিবারের হাতে মশারি তুলে দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের জন্য নতুন জামা-প্যান্টের ব্যবস্থাও করেন তিনি।তাঁর এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল সমাজের প্রয়োজনীয় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা।

পথকুকুর-বিড়ালের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা

মানুষের পাশাপাশি পশুদের কথাও ভোলেননি অর্ণব। তাঁর এনজিওর সঙ্গে যুক্ত পথকুকুর ও বিড়ালদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।জানা গিয়েছে, প্রতি বছরই নিজের জন্মদিনে পশুদের জন্য খাবারের উদ্যোগ নেন তিনি। তবে এবারের কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে আরও বেশ কিছু সামাজিক উদ্যোগ।

শিশুদের নতুন পোশাক, সঙ্গে গাছ লাগানো

ভাতারের বিভিন্ন এলাকার শিশুদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির আতা গাছও রোপণ করা হয়েছে।অর্ণবের বক্তব্য অনুযায়ী, গবাদি পশুরা সাধারণত আতা গাছ খেতে চায় না। ফলে গাছটি সহজে টিকে থাকতে পারে। ভবিষ্যতে গাছে ফল ধরলে তা মানুষের পাশাপাশি পাখিদেরও খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারে।

কালাচের কামড় নিয়ে বিশেষ সচেতনতা

এবারের উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সাপের কামড় নিয়ে সচেতনতা। বিশেষ করে রাতে ঘুমের সময় কালাচ সাপের কামড়ের আশঙ্কা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়।‘সাপ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত VRT বা ভেনম রেসপন্স টিমের সহযোগিতায় সাপের উপদ্রব রয়েছে এমন এলাকার প্রয়োজনীয় পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করে প্রায় ১০টি মশারি দেওয়া হয়।মশারি ব্যবহার রাতে ঘুমের সময় সাপসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের সংস্পর্শ কমানোর একটি বাস্তবসম্মত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হতে পারে। তবে শুধু মশারির উপর নির্ভর না করে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং রাতে বাইরে চলাফেরার সময় সতর্ক থাকাও জরুরি।

সাপে কাটলে কী করবেন?

সচেতনতা কর্মসূচিতে সাপে কামড়ালে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাপের কামড়কে কোনওভাবেই ঘরোয়া চিকিৎসায় সামলানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।হাসপাতালে পৌঁছাতে সমস্যা হলে স্থানীয় VRT স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ভাতার হাসপাতালেও VRT পরিষেবা গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে সাপের কামড়ে গুরুতর পরিস্থিতির ঝুঁকি কমানোর সুযোগ থাকে।

জন্মদিনে কেক কেটে উৎসবের বদলে সমাজসেবার নজির গড়লেন পূর্ব বর্ধমানের অর্ণব দাস। দুঃস্থ পরিবারের হাতে মশারি ও শিশুদের নতুন পোশাক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি পথকুকুর-বিড়ালকে খাবার খাওয়ানো এবং সাপের কামড় নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচিও চালান তিনি।

Leave a comment