সোনাঝুরি হাট বন্ধের আশঙ্কা! পরিবেশ বনাম জীবিকার টানাপোড়েনে এবার NGT-র দ্বারস্থ হস্তশিল্পীরাই

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটকে ঘিরে পরিবেশ বনাম জীবিকার লড়াই তীব্র। বনভূমিতে হাট পরিচালনার অভিযোগের মাঝেই NGT-র দ্বারস্থ হয়েছেন হস্তশিল্পীরা। জেনে নিন পুরো ঘটনা।

বোলপুর-শান্তিনিকেতনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ সোনাঝুরি হাট। প্রতি সপ্তাহে তো বটেই, বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই পর্যটকদের ভিড়ে মুখর থাকে এই এলাকা। কিন্তু বনভূমিতে হাট পরিচালনা এবং পরিবেশের ক্ষতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। সেই পরিস্থিতিতে হাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এবার পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন হাটের সঙ্গে যুক্ত হস্তশিল্পী ও ব্যবসায়ীরাই।

পরিবেশ আদালতে শিল্পীদের আবেদন

পরিবেশ সংক্রান্ত মামলার জেরে সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে একাধিক হস্তশিল্পী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের (NGT) কাছে আবেদন জানিয়েছেন।তাঁদের দাবি, সোনাঝুরি হাট কোনও অবৈধ বাজার নয়। বহু বছর ধরে কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের পরিচয়পত্র এবং রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও হস্তশিল্প দফতরের বৈধ শংসাপত্র নিয়েই তাঁরা ব্যবসা করে আসছেন।

জীবিকার প্রশ্নে উদ্বেগ

আবেদনকারী রাসিদুল মোল্লার বক্তব্য, এই হাটের উপর নির্ভর করে কয়েক হাজার হস্তশিল্পী ও ছোট ব্যবসায়ীর সংসার চলে। হাট বন্ধ হয়ে গেলে বহু পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়বে।তাঁদের দাবি, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জীবিকার বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় রাখা উচিত।

কী অভিযোগ পরিবেশবিদদের?

পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের অভিযোগ, বন দফতরের জমিতে বন সংরক্ষণ আইন না মেনেই দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলছে।

তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী—

জঙ্গলের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে দোকান বসানো হচ্ছে।

নিয়ম ভেঙে চারচাকা গাড়ির প্রবেশ ঘটছে।

পর্যটকদের প্লাস্টিক ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে।

গাছের ক্ষতি হচ্ছে।

বিভিন্ন জায়গায় কংক্রিট নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি একাধিকবার পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

কীভাবে শুরু হয়েছিল সোনাঝুরি হাট?

২০০০ সালে প্রয়াত আশ্রমিক শ্যামলী খাস্তগীরের উদ্যোগে সোনাঝুরি জঙ্গলে ছোট পরিসরে এই হাটের সূচনা হয়। তখন সপ্তাহে শুধুমাত্র শনিবার কয়েকজন স্থানীয় আদিবাসী ও হস্তশিল্পী নিজেদের হাতে তৈরি সামগ্রী বিক্রি করতেন।

সময়ের সঙ্গে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়তে থাকায় হাটের পরিসরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই এখানে ব্যবসা হয় এবং এটি শান্তিনিকেতনের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

পরিবেশ ও জীবিকার ভারসাম্যই এখন বড় প্রশ্ন

একদিকে বন ও পরিবেশ সংরক্ষণের দাবি, অন্যদিকে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ।

শান্তিনিকেতনের জনপ্রিয় সোনাঝুরি হাটকে ঘিরে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। বনভূমিতে অবৈধভাবে হাট বসানোর অভিযোগে পরিবেশ আদালতে মামলা চলার মধ্যেই এবার হাট বাঁচানোর আবেদন জানিয়ে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT)-এর দ্বারস্থ হয়েছেন হস্তশিল্পী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, এই হাটের উপর নির্ভর করে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা।

 

Leave a comment