Sourav Ganguly: সকাল ৮টায় ছেলেকে নিজের হাতে খাওয়াতেন বাবা! সৌরভের মুখে চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়ের অজানা স্মৃতি

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছোটবেলার অজানা স্মৃতি। স্কুলে যাওয়ার আগে বাবা চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায় কীভাবে নিজের হাতে ভাত মেখে ছেলেকে খাওয়াতেন, জানালেন সৌরভ।

ক্রিকেট মাঠে তাঁর আগ্রাসী নেতৃত্ব আর অফ-সাইডের দাপটে মুগ্ধ হয়েছে গোটা দেশ। কিন্তু মাঠের বাইরের সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনে বাবা চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়ের জায়গা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেটার হিসেবে সৌরভের বেড়ে ওঠার নেপথ্যে বাবার অবদান নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। এবার বাবার সঙ্গে ছোটবেলার এক মায়ামাখা স্মৃতি প্রকাশ্যে আনলেন তিনি—প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার আগে বাবা নিজের হাতে ছেলেকে খাইয়ে দিতেন।

বায়োপিকে আরও একবার সামনে আসবে চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়ের চরিত্র

সৌরভের জীবন নিয়ে তৈরি হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বায়োপিক ‘দাদা: দ্য সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় স্টোরি’। ইতিমধ্যেই ছবির শুটিং শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সৌরভের জীবনের ক্রিকেট, পরিবার এবং ব্যক্তিগত নানা অধ্যায় উঠে আসবে এই ছবিতে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, সৌরভের বাবার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যেতে পারে অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে। ফলে চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকা যে ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে, তা বলাই যায়।

সকাল ৮টার সেই খাওয়ানোর স্মৃতি আজও মনে রেখেছেন সৌরভ

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে নিজের ছোটবেলার কথা বলতে গিয়ে সৌরভ জানান, স্কুলে যাওয়ার আগে তাঁর বাবা নিজের হাতে তাঁকে খাইয়ে দিতেন।সৌরভের স্মৃতিতে, সকাল ৮টায় স্কুলে যাওয়ার সময় বাবা লেবু চটকে মাংস দিয়ে ভাত মেখে তাঁকে খাইয়ে দিতেন। এরপর স্কুলে চলে যেতেন তিনি এবং বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি ফিরতেন।বাবা কেন এত সকালে তাঁকে পেট ভরে খাওয়াতেন, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন সৌরভ। তাঁর কথায়, সারাদিন যাতে পেট ভরা থাকে, সেই কারণেই স্কুলে যাওয়ার আগে মাংস দিয়েভাত খাইয়ে দিতেন চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়।

মা ঠাকুরঘরে থাকতেন, তাই দায়িত্ব নিতেন বাবা

সৌরভ আরও জানান, সকালে তাঁর মা ঠাকুরঘরে থাকতেন। পরিবারের অন্যান্য কাকিমারাও সেই সময় সেখানে থাকতেন। ফলে ছেলেকে স্কুলে পাঠানোর আগে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিতেন তাঁর বাবা।এই ছোট্ট ঘটনাই সৌরভের কাছে আজ একটি মূল্যবান স্মৃতি। তাঁর মতে, সেই সময়কার পারিবারিক জীবন ছিল বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেকটাই আলাদা।

‘একেবারে আলাদা একটা প্রজন্ম ছিল’

বাবার কথা বলতে গিয়ে সৌরভ বুঝিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে পারিবারিক জীবনযাত্রারও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তাঁর ছোটবেলার এই ঘটনা আজকের প্রজন্মের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে।কিন্তু সৌরভের কাছে সেটিই ছিল স্বাভাবিক জীবন। বাবার হাতে খাওয়া, স্কুলে যাওয়া এবং সারাদিন পরিশ্রমের পর বিকেলে বাড়ি ফেরা—এই সাধারণ মুহূর্তগুলিই আজ তাঁর স্মৃতিতে বিশেষ হয়ে রয়েছে।

সৌরভের ক্রিকেটজীবনেও বাবার বড় ভূমিকা

চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্কও ছিল গভীর। তিনি ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB)-এর যুগ্ম-সম্পাদক ও ট্রেজারার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।সৌরভ এবং তাঁর দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্রিকেটজীবনে বাবার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌরভের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পথে তাঁর বাবার উৎসাহ ও ভূমিকার কথা বহুবার সামনে এসেছে।

২০১৩ সালে প্রয়াত হন চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়

চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায় ২০১৩ সালে ৭৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস এবং বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাবাকে হারানোর বহু বছর পরও তাঁর ছোটবেলার স্মৃতিতে চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতি যে কতটা গভীর, সৌরভের সাম্প্রতিক কথাতেই তার প্রমাণ মেলে।

ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সম্প্রতি নিজের প্রয়াত বাবা চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করেছেন। স্কুলে যাওয়ার আগে কীভাবে বাবা নিজের হাতে ভাত মেখে তাঁকে খাইয়ে দিতেন, সেই আবেগঘন স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন সৌরভ। তাঁর কথায় উঠে এসেছে এমন এক সময়ের ছবি, যখন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সময় কাটানোর ধরন ছিল আজকের থেকে একেবারেই আলাদা।

Leave a comment