মুড়িগঙ্গা নদীর তীব্র জলোচ্ছ্বাসে আবারও বিপদের মুখে সুন্দরবনের ঘোড়ামারা দ্বীপ। ভরা কোটালের ধাক্কায় নদী বাঁধের একাধিক অংশ ভেঙে পড়ায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন উদ্যোগ নিলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না দ্বীপবাসীর।
ভরা কোটালের ধাক্কায় বড়সড় ক্ষতি
ঘোড়ামারা দ্বীপের চুনপুড়ি স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকায় অমাবস্যার ভরা কোটালের সময় মুড়িগঙ্গা নদীর প্রবল জলোচ্ছ্বাসে নদী বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ধসে পড়ে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতির কাজ শুরু করেছে প্রশাসন, যাতে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা যায়।
আরও ৫০০ মিটার বাঁধে ফাটল
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু ধসে পড়া অংশই নয়, তার পাশাপাশি আরও প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা জুড়ে নদী বাঁধে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে আগামী ভরা কোটাল বা দুর্যোগের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ক্ষোভ
দ্বীপবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নদী ভাঙন এবং জোয়ারের চাপে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। একাধিকবার প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আনা হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।বাসিন্দাদের মতে, প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় তাঁদের জীবন ও জীবিকা ক্রমশ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে শক্তপোক্ত ও স্থায়ী নদী বাঁধ নির্মাণের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
প্লাবনের আশঙ্কায় উদ্বেগ
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামত না হলে আগামী ভরা কোটালে নদীর জল গ্রামে ঢুকে পড়তে পারে। এতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাছে দীর্ঘমেয়াদি নদী বাঁধ উন্নয়ন পরিকল্পনার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
অস্তিত্বের সংকটে ঘোড়ামারা দ্বীপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লাগাতার নদী ভাঙনের কারণে সুন্দরবনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠেছে ঘোড়ামারা দ্বীপ। গত কয়েক দশকে দ্বীপটির আয়তন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।স্থানীয়দের মতে, এখনই স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী কয়েক বছরে দ্বীপটির অস্তিত্ব আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।
অমাবস্যার ভরা কোটালের জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘোড়ামারা দ্বীপে মুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধের বড় অংশ ধসে পড়েছে। চুনপুড়ি স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৬০০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আরও প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে মেরামতির কাজ শুরু করলেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা।







