ঝাড়খণ্ডে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আরও অগ্রসর হয়ে রাজধানী রাঁচিসহ আটটি নতুন জেলায় পৌঁছেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে রাজ্যের সর্বত্র মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী দুই দিন কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের কার্যকলাপ স্বাভাবিক থাকতে পারে, যদিও বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এখন রাঁচি, খুঁটি, রামগড়, ধানবাদ, বোকারো, পূর্ব সিংভূম, সারাইকেলা-খরসাওয়াঁ এবং পশ্চিম সিংভূম জেলায় পৌঁছে গেছে। রাঁচি আবহাওয়া বিজ্ঞান কেন্দ্রের মতে, মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে এটি সমগ্র রাজ্যে বিস্তৃত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মৌসুমী বায়ুর উত্তর সীমা রাঁচি, জামুই এবং মুজফ্ফরপুর অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করছে। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে এবং একাধিক এলাকায় ভালো বৃষ্টিপাত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমী বায়ুর প্রভাব একাধিক জেলায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। রাজধানী রাঁচিতে সর্বাধিক ৮৬.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রামগড়ে ৪০ মিলিমিটার, গুমলায় ২৫.৮ মিলিমিটার এবং লাতেহারে ১৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

কলহান অঞ্চলের পশ্চিম সিংভূমে ১৬.৬ মিলিমিটার, সিমডেগায় ১৬.২ মিলিমিটার এবং পূর্ব সিংভূমে ১২.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। লোহারদাগা জেলায়ও ৬.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী দুই দিনে কিছু এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা কম থাকতে পারে। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকা, দমকা হাওয়া বইতে থাকা এবং কিছু স্থানে বজ্রসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমী বায়ুর কার্যকলাপ দুর্বল হয়ে পড়েনি; বরং তা ধীরে ধীরে রাজ্যের অবশিষ্ট অংশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে।
মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেলেও রাজ্যের সামগ্রিক বৃষ্টিপাত এখনও স্বাভাবিকের নিচে রয়েছে। জুন মাসে এখন পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডে মোট ২৯.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫৫.৬ মিলিমিটার। সেই হিসাবে রাজ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানী রাঁচিতে জুন মাসে এখন পর্যন্ত ৮৬.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা স্বাভাবিক ৫৭ মিলিমিটারের তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি।
মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতির ফলে ধানসহ খরিফ ফসলের বপনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের অনুমান, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে যদি সমগ্র ঝাড়খণ্ডে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠে, তবে কৃষি কার্যক্রম উপকৃত হতে পারে।
আবহাওয়া দফতর বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বনের এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে।












