গান বাজছে, আর চোখ বন্ধ করেই বলে দিচ্ছে কোন নোট, কোন স্কেল কিংবা কোন কর্ড! শুনতে অবাক লাগলেও এমনই অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে মধ্যমগ্রামের ১১ বছরের যশমিতা দত্তের। সুরের প্রতি ছোটবেলার ভালোবাসা এবং বছরের পর বছর অনুশীলনের জেরে এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে সে। মাত্র ২ মিনিট ২ সেকেন্ডে ৩৯টি মিউজিক্যাল নোট ও ২০টি কর্ড শনাক্ত করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নাম তুলেছে যশমিতা।

মাত্র ২ মিনিটেই কঠিন পরীক্ষা জয়
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পরীক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একের পর এক সুরের নোট ও কর্ড শনাক্ত করতে হয়েছে যশমিতাকে। মাত্র ২ মিনিট ২ সেকেন্ডে সে শনাক্ত করে ৩৯টি মিউজিক্যাল নোট এবং ২০টি কর্ড।চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য নিজের দক্ষতার পরীক্ষা জমা দিয়েছিল সে। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের পর আসে স্বীকৃতি। হাতে পৌঁছয় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সার্টিফিকেট।
সাড়ে চার বছর বয়সেই সুরের হাতেখড়ি
মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা একনিষ্ঠ ও কোয়েল দত্তের একমাত্র মেয়ে যশমিতা। মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে মায়ের কাছেই শুরু হয় তার গানের তালিম। পাঁচ বছর বয়সে কিবোর্ড শেখা শুরু করে সে।পরবর্তীতে সঙ্গীতশিল্পী প্রয়াত সৌভিক কুন্ডুর কাছেও দীর্ঘদিন কিবোর্ডের প্রশিক্ষণ নিয়েছে যশমিতা। কিবোর্ডের পাশাপাশি হারমোনিয়াম, গিটার, মেলোডিকা এবং ক্যাসিও বাজাতেও পারে সে। তবে কিবোর্ড ও হারমোনিয়ামই তার সবচেয়ে প্রিয় বাদ্যযন্ত্র।
কীভাবে তৈরি হল সুর চেনার ক্ষমতা?
গান শেখার পাশাপাশি ছোট বয়স থেকেই নোট ও কর্ড শনাক্ত করার অনুশীলন শুরু করেছিল যশমিতা। নিয়মিত চর্চার ফলে কোনও গান শুনলেই তার সরগম ও স্কেল শনাক্ত করার দক্ষতা তৈরি হয়েছে।সঙ্গীতের ভাষায় একটি সুরের প্রতিটি আলাদা স্বরকে বলা হয় নোট। অন্যদিকে একসঙ্গে বাজানো একাধিক স্বরের সমন্বয়কে বলা হয় কর্ড। গিনেসের পরীক্ষায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক নোট ও কর্ড শনাক্ত করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

রিয়্যালিটি শো থেকে অল ইন্ডিয়া রেডিও
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসই যশমিতার প্রথম বড় সাফল্য নয়। এর আগেও একাধিক রিয়্যালিটি শোয়ে অংশ নিয়েছে সে। পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া রেডিওর শিশু শিল্পী হিসেবেও গান পরিবেশন করেছে এই খুদে শিল্পী।দীর্ঘদিনের সঙ্গীতচর্চার সঙ্গে এবার যুক্ত হল আন্তর্জাতিক রেকর্ডের স্বীকৃতি। ফলে মাত্র ১১ বছর বয়সেই যশমিতার সঙ্গীতযাত্রায় যোগ হল নতুন একটি অধ্যায়।

ভবিষ্যতে প্লেব্যাক সিঙ্গার হতে চায় যশমিতা
গিনেসের স্বীকৃতি পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত যশমিতা। তবে এখানেই থামতে চায় না সে। ভবিষ্যতে প্লেব্যাক সিঙ্গার হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার।যশমিতার ইচ্ছা, একদিন সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানের সঙ্গে কাজ করা। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে নিয়মিত অনুশীলন এবং পরিশ্রম চালিয়ে যেতে চায় মধ্যমগ্রামের এই খুদে প্রতিভা।

মাত্র ১১ বছর বয়সেই অসাধারণ সঙ্গীত প্রতিভার নজির গড়েছে মধ্যমগ্রামের যশমিতা দত্ত। মাত্র ২ মিনিট ২ সেকেন্ডে ৩৯টি মিউজিক্যাল নোট এবং ২০টি কর্ড শনাক্ত করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছে এই খুদে শিল্পী। ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে তার সুর চেনার এই বিশেষ দক্ষতা।







