Guess the Celebrity: ‘মা পা জড়িয়ে বলেছিলেন, করো না!’ ৩০ বছরের বড় শেখর কাপুরকে বিয়ে, মেয়ের জন্মের পরই ভাঙল সম্পর্ক—চর্চায় সুচিত্রার জীবন

শাহরুখের নায়িকা সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তির জীবনে শেখর কাপুরের সঙ্গে প্রেম, ৩০ বছরের বয়সের ব্যবধান, বিয়ে ও বিচ্ছেদের গল্প জানুন।

স্কুলজীবন থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তি। পরবর্তীকালে শাহরুখ খানের নায়িকা হিসেবে বলিউডে পরিচিতি পান তিনি। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি অধ্যায় এখনও অনুরাগীদের কৌতূহলের বিষয়। পরিচালক শেখর কাপুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শুরু যখন সুচিত্রা ছিলেন অল্পবয়সী। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তাঁরা বিয়ে করেন। কয়েক বছর পর সেই সম্পর্ক ভেঙেও যায়। পুরনো সাক্ষাৎকার ও সাম্প্রতিক কথোপকথনে সেই সময়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সুচিত্রা।

কে এই অভিনেত্রী?

তিনি সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তি। শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘কভি হ্যাঁ কভি না’ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন। অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও তাঁর আগ্রহ ছিল। নব্বইয়ের দশকে একাধিক মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেন তিনি।দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৫ সালে ‘মাই ওয়াইফ’স মার্ডার’ ছবির মাধ্যমে ফের বড় পর্দায় দেখা যায় তাঁকে।

কলেজে প্রথম দেখা শেখর কাপুরের সঙ্গে

সুচিত্রার কথায়, তিনি যখন একাদশ শ্রেণিতে পড়তেন, তখন শেখর কাপুর তাঁদের কলেজে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। সেই সময় থেকেই পরিচালকের প্রতি তাঁর আকর্ষণ তৈরি হয়।‘হটারফ্লাই’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা দাবি করেন, প্রথমদিকে শেখর তাঁকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেননি। বরং তিনিই শেখরের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং তাঁকে পছন্দ করতেনপরবর্তীতে সুচিত্রা ১৮ বছর বয়সে একটি ছবির জন্য শেখর কাপুরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। সেই ছবি শেষ পর্যন্ত তৈরি না হলেও দু’জনের যোগাযোগ বাড়তে থাকে

৩০ বছরের বয়সের ব্যবধান, তবু বিয়ের সিদ্ধান্ত

সুচিত্রা ও শেখর কাপুরের বয়সের ব্যবধান ছিল প্রায় ৩০ বছর। শেখরের এর আগে একটি বিয়ে হয়েছিল এবং সেই সম্পর্কের বিচ্ছেদও হয়ে গিয়েছিল।এমন পরিস্থিতিতে সুচিত্রার পরিবার তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। বিশেষ করে মেয়ের এমন সিদ্ধান্তে তাঁর মা আপত্তি জানিয়েছিলেন।সুচিত্রার কথায়, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাঁর মা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। এমনকী পা জড়িয়ে ধরে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধও করেছিলেন।

বিয়ের পর দ্রুতই তৈরি হয় সমস্যা

শেষ পর্যন্ত সুচিত্রা ও শেখর বিয়ে করেন। কিন্তু তাঁদের দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের প্রথম বছর থেকেই সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হতে শুরু করেছিল।সেই সময় সুচিত্রা নিজের পড়াশোনা ও সঙ্গীতচর্চা নিয়েও এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি বার্কলি স্কুল অফ মিউজিকে পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপও পেয়েছিলেন বলে জানান।কিন্তু এর মধ্যেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। ফলে নিজের পরিকল্পনা থেকে কিছু সময়ের জন্য সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

মেয়ের জন্মের পরও টেকেনি সংসার

গর্ভবতী হওয়ার পর কয়েক বছর সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন সুচিত্রা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এই দাম্পত্য আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।বিয়ের প্রায় আট বছর পর সুচিত্রা ও শেখর আলাদা হয়ে যান। তাঁদের মেয়ে কাবেরী কাপুর তখন ছোট। পরবর্তীতে মেয়ের দায়িত্ব দু’জনেই ভাগ করে নেন।

কাবেরীর যৌথ অভিভাবকত্ব

বিবাহবিচ্ছেদের পর কাবেরীর যৌথ অভিভাবকত্ব নেন সুচিত্রা ও শেখর। তবে সুচিত্রার বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়েটি বেশিরভাগ সময় তাঁর সঙ্গেই থাকত।নিজের রসিকতাপূর্ণ ভঙ্গিতে তিনি শেখরকে ‘ছুটির দিনের বাবা’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। একইসঙ্গে মেয়ের সঙ্গে তাঁর বাবার ঘনিষ্ঠতার কথাও স্বীকার করেছেন সুচিত্রাঅভিনেত্রীর মতে, কাবেরী তাঁর বাবা-মা দু’জনের কাছ থেকেই আলাদা ধরনের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। বাবা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন, মেয়ের তাঁর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ ছিল।

কঠিন সময়ে বাবা-মায়ের পাশে পেয়েছিলেন সুচিত্রা

সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর সুচিত্রার বাবা-মা তাঁকে সমর্থন করেছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, তাঁর মা তাঁকে বুঝিয়েছিলেন যে অপমানজনক বা অসম্মানজনক কোনও পরিস্থিতি মেনে নেওয়া উচিত নয়।এই পারিবারিক সমর্থন তাঁর জীবনের কঠিন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলেই জানিয়েছেন সুচিত্রা।

শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘কভি হ্যাঁ কভি না’ ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তির ব্যক্তিগত জীবনও কম আলোচিত নয়। পরিচালক শেখর কাপুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, ৩০ বছরের বয়সের ব্যবধান, পরিবারের আপত্তি এবং শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদ—সবই একসময় সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল। সম্প্রতি পুরনো সেই সম্পর্ক নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা ফের প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেত্রী।

Leave a comment