হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুর রোহড়ু সফরের সময় অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংয়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মভূমি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের মধ্যে থেকে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
রোহড়ুতে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের অন্যতম দিক ছিল লোকনির্মাণমন্ত্রী বিক্রমাদিত্য সিং এবং কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি প্রতিভা সিংয়ের অনুপস্থিতি। জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্রমাদিত্য সিং বিদেশ সফরে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতেও মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ উপস্থিত হন। শিশু, মহিলা এবং প্রবীণদেরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
রোহড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে বীরভদ্র সিংয়ের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি 1990, 1993, 1998, 2003 এবং 2007 সালের বিধানসভা নির্বাচনে রোহড়ু থেকে টানা পাঁচবার জয়ী হয়েছিলেন। পরে সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে আসনটি সংরক্ষিত হয়ে গেলে তিনি শিমলা গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়েন।
এই রাজনৈতিক পটভূমির মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী সুখুর রোহড়ু সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে তিনি মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন এবং তিনি তাঁদের কথা শোনেন। গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও কথোপকথন চলতে থাকে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংস্কৃতিরও উপস্থিতি ছিল। সুখু স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নাটি নাচেন এবং ‘রোহড়ু জানা মেরি আমিয়েঁ’ গানটিও গুনগুন করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।
রোহড়ুর কংগ্রেস বিধায়ক মোহন লাল ব্রাক্টাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে সুখু সরকারের মুখ্য সংসদীয় সচিব করা হয়েছিল। জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাক্টাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
রোহড়ু বিধানসভা এলাকায় এটি মুখ্যমন্ত্রী সুখুর দ্বিতীয় বড় সফর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে তিনি সরকার গ্রাম কে দ্বার কর্মসূচির আওতায় ডোডরা-কোয়ার গিয়েছিলেন।
রোহড়ু দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বীরভদ্র সিংয়ের পর এখানে কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রভাব মোহন লাল ব্রাক্টা এগিয়ে নিয়ে যান। 2012 সালে ব্রাক্টা রোহড়ু থেকে নির্বাচনে জয়ী হন এবং 2022 সালেও কংগ্রেসের টিকিটে জয় পান।
অনুষ্ঠানে মানুষের অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনা সামনে এসেছে। তবে একটি অনুষ্ঠানে জমায়েত হওয়া মানুষের সংখ্যা কোনো নেতার জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মুখ্যমন্ত্রীর গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের মধ্যে থাকা, তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া সফরের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলির মধ্যে ছিল।
বীরভদ্র সিংয়ের রাজনৈতিক প্রভাব থাকা রোহড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী সুখুর এই সফর এমন সময় হয়েছে, যখন হিমাচল কংগ্রেসের রাজনীতিতে সংগঠন ও নেতৃত্ব সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রোহড়ুর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনার ওপর গুরুত্ব দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও নিজেদের প্রয়োজনের কথা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। সুখু তাঁদের কথা শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মহিলা, প্রবীণ এবং শিশুদের উপস্থিতিও ছিল। মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘ সময় মানুষের মধ্যে থাকেন। সাধারণত বড় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের পর শেষ হয়ে গেলেও রোহড়ুতে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের সঙ্গে দেখা করতে থাকেন। ফলে অনুষ্ঠানে আসা মানুষও দীর্ঘ সময় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজেদের কথা জানানোর জন্য অপেক্ষা করেন।
রোহড়ুতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই আলোচনায় আসে। একদিকে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যার কথা শোনেন, অন্যদিকে নাটি নেচে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের সংযোগ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘ সময় সেখানে থাকা সফরের প্রধান বিষয়গুলির মধ্যে ছিল।












