বিশ্ব গণ্ডার দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আলিপুরদুয়ারের সরকারি অনুষ্ঠান শেষে তিনি যান জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা জিপসি সাফারি করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এরপর হলং এলাকার পিলখানায় গিয়ে দুই হস্তিশাবকের নামকরণ করেন তিনি। বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই শাবক দুটির নাম বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
জলদাপাড়ায় জিপসি সাফারি
আলিপুরদুয়ারের বিশ্ব গণ্ডার দিবসের অনুষ্ঠান শেষ করে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে খোলা জিপসিতে জঙ্গল সাফারি করেন তিনি।সাফারির সময় গণ্ডার ও বাইসন দেখেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। জলদাপাড়া ও গোরুমারা জাতীয় উদ্যানে থাকা একশৃঙ্গ গণ্ডারকে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণ সম্পদ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
দুই হস্তিশাবকের নাম ‘সুলক্ষণা’ ও ‘চৈতন্য’
জলদাপাড়ার পিলখানায় গিয়ে দুই কুনকি হাতির শাবকের নামকরণ করেন শুভেন্দু অধিকারী।দুই শাবকের মধ্যে একটি স্ত্রী এবং অন্যটি পুরুষ। স্ত্রী হাতিটির নাম রাখা হয়েছে ‘সুলক্ষণা’, আর পুরুষ শাবকের নাম ‘চৈতন্য’। নাম বাছাইয়ের সময় তাদের বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
কেন রাখা হল ‘চৈতন্য’ নাম?
পুরুষ হাতিশাবকটির মা হাতির নাম ‘চৈতি’। সেই নামের সঙ্গে মিল রেখেই তার সন্তানের নাম ‘চৈতন্য’ রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।অন্যদিকে স্ত্রী শাবকের নাম রাখা হয়েছে ‘সুলক্ষণা’। দুই শাবকের নামকরণের ক্ষেত্রে হাতিদের নাম রাখার প্রচলিত ধারাটিই অনুসরণ করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
গণেশ পুজোয় অংশ নিলেন
জলদাপাড়ার পিলখানায় গিয়ে গণেশ পুজোয়ও অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। হাতিদের প্রসাদ খাওয়ানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছেএর পাশাপাশি বনাঞ্চলের বিভিন্ন কাজকর্ম সম্পর্কেও আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
হলং বনবাংলোর কাজও পরিদর্শন
জলদাপাড়া সফরের সময় হলং এলাকার বনবাংলো পুনর্নির্মাণের কাজও পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী মার্চের মধ্যে পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বিশ্ব গণ্ডার দিবসে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে জোর
বিশ্ব গণ্ডার দিবসের অনুষ্ঠানে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও বেআইনি বন্যপ্রাণ বাণিজ্য রোধের বিষয়টিও উঠে আসে। ওই কর্মসূচিতে বন দফতরের বাজেয়াপ্ত করা বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেহাংশ নষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অন্যান্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গণ্ডারের শিং-সহ বাজেয়াপ্ত বন্যপ্রাণ সামগ্রী ধ্বংস করা হয়।এর আগে বন দফতর জানিয়েছিল, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বন ও বন্যপ্রাণ বিভাগে বাজেয়াপ্ত বা সংরক্ষিত থাকা বিভিন্ন প্রাণীর দেহাংশ এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ধ্বংস করা হবে।
২ অক্টোবর বক্সায় বাঘ ছাড়ার কর্মসূচি
জলদাপাড়া সফরের পর শুভেন্দু অধিকারী জানান, ২ অক্টোবর বক্সা টাইগার রিজার্ভে একটি বাঘ ছাড়ার কর্মসূচি রয়েছে। এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিত থাকার কথাও তিনি জানান।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি বাঘিনী এনে বক্সায় ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে আগস্টেও বক্সায় ২ অক্টোবর বাঘ ছাড়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এসেছিল।
বিশ্ব গণ্ডার দিবস উপলক্ষে উত্তরবঙ্গে কর্মসূচিতে গিয়ে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে জিপসি সাফারি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাফারিতে গণ্ডার ও বাইসন দেখার কথা জানান তিনি। পরে জলদাপাড়ার পিলখানায় দুই কুনকি হাতির শাবকের নামকরণ করেন। একটি স্ত্রী শাবকের নাম রাখা হয়েছে ‘সুলক্ষণা’ এবং পুরুষ শাবকের নাম ‘চৈতন্য’।










