বলিউড অভিনেত্রী কাজলের বোন তানিষা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির বিদ্যুৎ বিল ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। লোনাভালায় বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী। ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হচ্ছে। এমনকী নিজের পোস্টে মহারাষ্ট্রের বিদ্যুৎ দফতরের আচরণকে ‘মাফিয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছেন তানিষা।
লোনাভালার বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তানিষার ক্ষোভ
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন তানিষা মুখোপাধ্যায়। সেখানে লোনাভালায় বিদ্যুতের বিল নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। অভিনেত্রীর অভিযোগ, এলাকায় অনেক গ্রাহক অস্বাভাবিক হারে বেশি বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার সমস্যার মুখে পড়ছেন।তানিষার দাবি, বিলের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি সময়মতো বিল না মেটানোর অভিযোগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
‘নিয়মকানুন নেই’, অভিযোগ অভিনেত্রীর
নিজের পোস্টে তানিষা দাবি করেছেন, বিল পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ না হলেও শনিবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর বক্তব্য, এভাবে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা বা হয়রানি করা উচিত নয়।লোনাভালার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদেরও ট্যাগ করেছেন। বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের আবেদন জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
স্মার্ট মিটার বসানোর পরেই কি বাড়ছে বিল?
তানিষার পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, স্মার্ট মিটার বসানোর পর বিদ্যুৎ বিল নিয়ে একাধিক গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের থানে, ভাসাই-ভিরার, পালঘর এবং উলহাসনগর-সহ বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারাও বেশি বিল পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।তবে স্মার্ট মিটার বসানো মানেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি বিদ্যুৎ খরচ রেকর্ড হচ্ছে, এমনটা মানতে নারাজ মহারাষ্ট্র স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বা MSEDCL।
নাগপুরের ঘটনায় বড় অঙ্কের বিল নিয়ে প্রশ্ন
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এমন অভিযোগ অবশ্য মহারাষ্ট্রে নতুন নয়। এর আগে নাগপুরে একটি পরিবার ৩৪৮ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ১.৪৪ লক্ষ টাকার বিল পেয়েছিল বলে জানা যায়।পরবর্তীতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে MSEDCL মিটার রিডিংয়ে ভুল থাকার কথা স্বীকার করে। সংশোধনের পর ওই বিল কমিয়ে ১৩,৮০০ টাকা করা হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, স্মার্ট মিটার নিজে থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ রেকর্ড করে না।
বিদ্যুৎ দফতরকে ‘মাফিয়া’ বললেন তানিষা
এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতেই লোনাভালার বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে তীব্র ভাষায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তানিষা। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত বিল এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়েই তিনি বিদ্যুৎ দফতরের আচরণকে ‘মাফিয়া’র মতো বলে মন্তব্য করেছেন।তবে তানিষার পোস্টে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি MSEDCL-এর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ—স্মার্ট মিটার নিজে থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখায় না। ফলে নির্দিষ্ট কোনও গ্রাহকের অস্বাভাবিক বিলের ক্ষেত্রে মিটার রিডিং বা বিলিংয়ের তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করাই প্রয়োজন।
লোনাভালায় নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী তানিষা মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত বিল পাঠানোর পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কিছু বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিষয়টি নিয়ে মহারাষ্ট্রের বিদ্যুৎ দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।









