মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) ক্রয় করা হাজার হাজার কুইন্টাল ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, সময়মতো ধান নিরাপদে গুদামে সংরক্ষণ না করে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয়েছিল, যার ফলে বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে তা নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
জানা গেছে, পান্না জেলায় কৃষকদের কাছ থেকে MSP-তে কেনা হাজার হাজার কুইন্টাল ধান নির্ধারিত সময়ে ওয়্যারহাউসে পৌঁছানো হয়নি। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় বৃষ্টি ও আর্দ্রতার প্রভাবে ধান নষ্ট হয়ে যায়। একাধিক স্থানে ধানের মধ্যে চারা পর্যন্ত গজিয়ে উঠেছে, যা সরকারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত ছবিতে বিপুল পরিমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়া ধান দেখা গেছে। কৃষক ও স্থানীয়দের দাবি, সময়মতো ধান নিরাপদ গুদামে সংরক্ষণ করা হলে এই ক্ষতি এড়ানো সম্ভব ছিল।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে ধান ওয়্যারহাউসে পৌঁছাতে বিলম্বের কারণ এবং এর জন্য কারা দায়ী তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি সংরক্ষণ ও পরিবহন প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের গাফিলতি হয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসন পুরো ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করছে।
ঘটনাটি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রদেশ ওয়্যারহাউস কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সঞ্জয় নগায়চ বিভিন্ন জেলার ওয়্যারহাউস পরিদর্শন করছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি একাধিক সংরক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে ব্যবস্থার পর্যালোচনা করেছিলেন।
এবার তাঁর নিজ জেলা পান্নাতেই বিপুল পরিমাণ ধান নষ্ট হওয়ার ঘটনায় ওয়্যারহাউস ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিপণ্যের গুণমান বজায় রাখতে সময়মতো নিরাপদ সংরক্ষণ এবং নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ধান নষ্ট হওয়ার ঘটনায় সরকারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। যদিও কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করা ফসলের মূল্য পরিশোধ পৃথক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়, তবুও বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য নষ্ট হলে সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয় এবং জনবিতরণ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এখন তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই নজর রয়েছে, যা থেকে ধান নষ্ট হওয়ার কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট হবে।







