বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই মনে হয়েছিল, এই সম্পর্ক আর টিকবে না। এমনকি বাপের বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছিলেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী টিনা পারেখ। কিন্তু এক কথোপকথনই বদলে দেয় সবকিছু। আজ সেই সম্পর্কই দুই দশকের দাম্পত্যের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে।
'কাহানি ঘর ঘর কি' থেকেই জনপ্রিয়তা
একতা কাপুরের জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'কাহানি ঘর ঘর কি'-তে সাক্ষী তানওয়ারের অন-স্ক্রিন মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন টিনা পারেখ। টেলিভিশনে সাফল্যের পর ২০০৮ সালে অভিনয় জগৎ থেকে কিছুটা দূরে সরে যান তিনি।
২০ বছরের দাম্পত্য নিয়ে আবেগঘন পোস্ট
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে একটি পোস্ট শেয়ার করেন টিনা। সেখানে তিনি জানান, জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের বদলে একেবারে সাধারণ আয়োজনই বেছে নিয়েছিলেন। এমনকি বিয়ের দিন ননদের আলমারি থেকে ধার করা মেরুন শাড়ি পরেছিলেন। নিজের দিদিমার দেওয়া সোনার চুড়িও ছিল তাঁর বিয়ের অন্যতম আবেগের স্মৃতি।
আশ্রমেই হয়েছিল বিয়ে
২০০৭ সালে সঙ্গীতশিল্পী বিক্রম হাজারার সঙ্গে শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের আশ্রমে ঘরোয়া পরিবেশে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন টিনা পারেখ। তবে বিয়ের পরের দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না।
বিয়ের পাঁচ দিনের মাথায় ডিভোর্সের কথা
এক সাক্ষাৎকারে টিনা জানান, বিয়ের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তিনি বিক্রমকে জানিয়েছিলেন যে এই সম্পর্ক তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় এবং তিনি বাপের বাড়ি ফিরে যেতে চান। সেই সময় তিনি মনে করেছিলেন, এই বিয়ে টিকবে না।
স্বামীর এক কথাতেই বদলে যায় সিদ্ধান্ত
টিনার কথায়, তাঁর স্বামী বিক্রম কোনও রাগ বা তর্ক না করে শান্তভাবে তাঁকে বলেছিলেন, রাত হয়ে গিয়েছে, আগে বিশ্রাম নিতে। পরদিন তিনি টিনাকে তিন মাস সময় দিতে অনুরোধ করেন। বিক্রম বলেন, যদি তিন মাস পরেও টিনা এই সম্পর্ক রাখতে না চান, তবে তিনি নিজেই তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেবেন এবং প্রয়োজনে বিচ্ছেদের সমস্ত দায় নিজের কাঁধে নেবেন।এই ধৈর্য, সম্মান ও বোঝাপড়াই টিনার মন বদলে দেয়। ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
আজ ২০ বছরের সুখের দাম্পত্য
প্রথম দিকের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আজ টিনা পারেখ ও বিক্রম হাজারার দাম্পত্য প্রায় দুই দশক পূর্ণ করতে চলেছে। একসময় যে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মুখে ছিল, সেটাই আজ তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
'কাহানি ঘর ঘর কি' খ্যাত অভিনেত্রী টিনা পারেখ জানিয়েছেন, বিয়ের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তিনি সম্পর্ক ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু স্বামী বিক্রম হাজারার ধৈর্য ও সমর্থন সেই সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। এখন তাঁরা ২০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।








