এশিয়া সফরে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মাসে এশিয়া সফরের সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। আসিয়ান ও এপেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ, সম্ভাব্য বৈঠকের সময়সূচি এবং দুই নেতার পূর্ববর্তী সাক্ষাতের বিবরণ জানুন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মাসে এশিয়া সফরের সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। আসিয়ান ও এপেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ম্যানিলা ও চীনের শেনঝেনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই সম্ভাবনার কথা জানান ট্রাম্প।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প জানান, তাঁর আসন্ন এশিয়া সফরে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। তবে সম্ভাব্য বৈঠকের তারিখ, স্থান বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

ট্রাম্পের সফরসূচিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির সংস্থা (আসিয়ান) এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক)-এর শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

১৬ নভেম্বর ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এরপর তিনি ১৭ থেকে ১৯ নভেম্বর চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠিতব্য এপেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। এই সফরে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকও নজরে থাকবে।

কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। আলোচনা হলে তা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা এর আগেও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। অগস্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি ২০২৬ সালে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনার বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরেও আলোচনা হয়েছিল।

অগস্টে প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর একটি প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছিল, শরৎকালে বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। চিনে অনুষ্ঠিতব্য এপেক শীর্ষ সম্মেলনকে সম্ভাব্য বৈঠকের একটি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে এখনও পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা উত্তর কোরিয়ার তরফে এমন কোনও বৈঠকের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আসেনি। ফলে আপাতত দুই নেতার সম্ভাব্য সাক্ষাৎকে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতি মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে তিনবার বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকগুলির লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক উত্তেজনা কমানো এবং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তির সম্ভাবনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

২০১৮ সালের জুনে সিঙ্গাপুরে দুই নেতার প্রথম শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠক করা প্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হন। ওই বৈঠকে দুই পক্ষ কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক হয়। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।

২০১৯ সালের জুনে কোরীয় উপদ্বীপের অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড)-এ দুই নেতা তৃতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে পা রাখা প্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হন। এই বৈঠকের ফলে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও পরবর্তী সময়ে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

 

Leave a comment