২২০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে ভয়ংকর টাইফুন! আগামী ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ, জারি সর্বোচ্চ সতর্কতা

২২০ কিমি বেগে শক্তিশালী টাইফুন ‘সাউডেল’ ধেয়ে আসছে। নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে জারি সর্বোচ্চ সতর্কতা। আগামী ১২ ঘণ্টায় কী হতে পারে, জানুন বিস্তারিত।

প্রকৃতির রুদ্ররূপ ফের চোখ রাঙাচ্ছে এশিয়ার একাধিক এলাকায়। শক্তি বাড়িয়ে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে টাইফুন ‘সাউডেল’। আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জারি হয়েছে উচ্চপর্যায়ের সতর্কতা। আগামী কয়েক ঘণ্টা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শক্তি বাড়াচ্ছে ‘সাউডেল’

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্র এলাকায় দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে ‘সাউডেল’। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি ক্যাটাগরি-৩ মাত্রার শক্তিশালী টাইফুনে পরিণত হয়েছে। ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতি ক্রমশ বাড়ছে এবং সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটারের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আগামী ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা বিবেচনা করে সাইপান এবং নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টায় ওই এলাকায় প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।বিশেষ করে আগ্রিহান, প্যাগান এবং আলামাগান দ্বীপের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাইপানের দিকেও নজর

টাইফুনটি সাইপানের কাছাকাছি পৌঁছে দ্রুত উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঝড়ের বিস্তৃত অংশে বিপজ্জনক গতির বাতাস বইতে পারে। ফলে উপকূলীয় এলাকায় সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চীনেও সতর্কতা

এই ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে চিন্তার উপকূলীয় এলাকাতেও নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে হাইনান দ্বীপ ও সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। শক্তিশালী ঝড়ের সঙ্গে অতিবৃষ্টি হলে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আগের টাইফুনের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাজা

এর আগে এশিয়ার বিভিন্ন অংশে আঘাত হানা শক্তিশালী টাইফুনের কারণে ব্যাপক বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। কোথাও বাঁধ ভেঙে দ্রুত জল ঢুকে পড়েছে, কোথাও আবার মানুষকে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এমনকি বন্যার জলে বিষধর সাপ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছিল।এই অতীত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার প্রশাসন আগেভাগে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কেন এত সতর্ক প্রশাসন?

শক্তিশালী টাইফুনের ক্ষেত্রে শুধু ঝোড়ো হাওয়াই নয়, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, জলোচ্ছ্বাস এবং ভূমিধসের মতো বিপদও তৈরি হতে পারে। ফলে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি পরিষেবা প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তি বাড়াচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ‘সাউডেল’। ঘণ্টায় প্রায় ২২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের একাধিক এলাকায় জারি হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। প্রবল বৃষ্টি, বিধ্বংসী হাওয়া ও বন্যার আশঙ্কায় প্রশাসন প্রস্তুতি শুরু করেছে।

Leave a comment