মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার প্রস্তাব আপাতত স্থগিত করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির কারণে ৬০ দিনের সীমা প্রভাবিত হয়েছে এবং উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ওয়াশিংটনে সামরিক ক্ষমতা ও কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক কার্যক্রমের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়ার প্রস্তাব স্থগিত করেছেন। প্রস্তাবটি ১ মে উত্থাপন করার কথা ছিল, তবে প্রশাসন এটিকে পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে বলেন, ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালাতে প্রেসিডেন্টের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক নয়, বিশেষ করে যখন পরিস্থিতি “সিজফায়ার” বা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মতো অবস্থায় পরিবর্তিত হয়েছে।
১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে “ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন” আইন কার্যকর হয়। এই আইনের অধীনে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিন সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। এরপর অভিযান বন্ধ করতে হয়, অথবা কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়, কিংবা অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করতে হয়।
![]()
ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, ইরানের সঙ্গে ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির ফলে ৬০ দিনের সময়সীমা প্রযুক্তিগতভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন নয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণ যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে না, বরং অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধবিরতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে বড় কোনো সামরিক হামলার নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, যদিও আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে কোনো হামলার ক্ষেত্রে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে এবং আক্রমণকারীদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, আসন্ন সময় “নির্ণায়ক ঝড়” হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষিতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে প্রভাব পড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১২৬ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছায়, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কিছুটা কমলেও বাজার অস্থির রয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনী তাদের যুদ্ধজাহাজগুলোকে পুনরায় সক্রিয় অবস্থায় আনছে এবং দ্রুত জ্বালানি, খাদ্য, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) প্রকাশিত ছবিতে এই কার্যক্রমের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইউরোপে মার্কিন নীতির প্রতি অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। জার্মানির এক জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় সংসদ সদস্য বলেছেন, বর্তমান মার্কিন নেতৃত্বের ওপর আগের মতো আস্থা নেই। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও রাজনৈতিক মতপার্থক্য বাড়ছে।






