মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের উপর চাপ বাড়তে পারে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক লেনদেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি চুক্তি, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং এলন মাস্কের ব্যবসায়িক কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়িক কার্যকলাপ খতিয়ে দেখতে চাইছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। সরকারি পদে থাকা এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে কোনও স্বার্থের সংঘাত রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি তুলেছেন দলের একাধিক সাংসদ।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সাংসদ রবার্ট গার্সিয়া হাউস ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তদন্তের পরিকল্পনা করেছেন।
এই বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক লেনদেন, বড় সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত কথিত দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সুবিধা, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর কার্যকলাপ এবং জেফ্রি এপস্টেইন মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি। গার্সিয়ার বক্তব্য, যেসব সরকারি আধিকারিক ও ব্যবসায়ীর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁদের কংগ্রেসের সামনে জবাবদিহি করতে হতে পারে।
ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সংস্থা World Liberty Financial-এর বিদেশি ব্যবসায়িক সম্পর্কও ডেমোক্র্যাটদের নজরে রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে এই সংস্থার যুক্ত একটি চুক্তিকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান World Liberty Financial-এর সঙ্গে যুক্ত সংস্থা SC Financial Technologies-এর সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছিল। আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে ডলারের সঙ্গে যুক্ত USD1 স্টেবলকয়েনের সম্ভাব্য ব্যবহার খতিয়ে দেখাই ছিল এই সমঝোতার উদ্দেশ্য।
![]()
ট্রাম্প পরিবারের বিদেশি ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানতে চাইছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে কোনও সমঝোতায় স্বাক্ষর হওয়া নিজে থেকে বেআইনি কার্যকলাপের প্রমাণ নয়।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী এলন মাস্কও ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্তের আওতায় আসতে পারেন। রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন মাস্ক। তবে নির্বাচনের ফল তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।
নির্বাচনী অর্থায়নের উপর নজর রাখা সংস্থা OpenSecrets-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল নির্বাচনে মাস্ক প্রায় ৪৪৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন। এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধরনের নির্বাচনী ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্কের সমর্থন পাওয়া প্রতিনিধি পরিষদের ৩৭ জন রিপাবলিকান প্রার্থীর মধ্যে মাত্র তিনজনের জয় নিশ্চিত হয়েছিল। অন্যদিকে, ৩৩ জন পরাজিত হন। একটি আসনের ফল তখনও বাকি ছিল। সেনেট নির্বাচনে মাস্কের সমর্থন পাওয়া সাতজন রিপাবলিকান প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন পরাজিত হন।
টেক্সাসেও নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছেন মাস্ক। সেখানে সেনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন। তা সত্ত্বেও রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে পরাজিত হন।
ব্যবসায়িক দিক থেকে টেক্সাস মাস্কের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সংস্থা টেসলা এবং স্পেসএক্সের সেখানে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা মাস্কের সরকারি বিভাগগুলিতে ভূমিকা, তাঁর সংস্থাগুলিকে দেওয়া চুক্তি এবং সরকারি সহায়তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলিও খতিয়ে দেখতে চান।
কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ফলে আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসনের উপর সংসদীয় নজরদারি বাড়তে পারে। বিভিন্ন কমিটি নথি তলব করতে পারে এবং সরকারি আধিকারিক ও ব্যবসায়ীদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডেকে পাঠাতে পারে।
তবে হোয়াইট হাউস কোনও ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত সাধারণ আমেরিকানদের স্বার্থ রক্ষা করবে না।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের সামনেও একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়েও তাঁদের কাজ করতে হবে। দলের কয়েকজন নেতা সতর্ক করেছেন, তদন্ত যেন রাজনৈতিক প্রতিশোধের পদক্ষেপ বলে মনে না হয়।








