ক্যাম্পের পাশেই বাঘ, হরিণ, কুমিরের আনাগোনা! এক জায়গা থেকেই দেখা যাবে ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন, ঘুরে আসুন রহস্যময় বুড়ির ডাবরি

সুন্দরবনের বুড়ির ডাবরি ফরেস্ট ক্যাম্পে রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন দেখার সুযোগ। কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কী দেখবেন, জানুন সম্পূর্ণ ট্যুর গাইড।

শীতের মরশুম কিংবা টানা ছুটিতে একটু অন্যরকম ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? পাহাড় বা সমুদ্রের বদলে এবার ঘুরে আসতে পারেন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনের এক বিশেষ জায়গা থেকে। নাম বুড়ির ডাবরি। এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, এক জায়গায় দাঁড়িয়েই দেখা যায় ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। চারপাশে সবুজ ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলের মধ্যে রহস্যময় রাস্তা, ওয়াচ টাওয়ার এবং বন্যপ্রাণীর হাতছানি—সব মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অসাধারণ গন্তব্য হতে পারে এই ফরেস্ট ক্যাম্প।

 ক্যাম্পের পাশেই বাঘ, হরিণ, কুমিরের আনাগোনা! এক জায়গা থেকেই দেখা যাবে ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন, ঘুরে আসুন রহস্যময় বুড়ির ডাবরি
কোথায় রয়েছে বুড়ির ডাবরি ফরেস্ট ক্যাম্প?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের অন্তর্গত বুড়ির ডাবরি ফরেস্ট ক্যাম্প। সুন্দরবনের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রের তুলনায় এই জায়গার বিশেষত্ব অনেকটাই আলাদা।এখান থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের দুই পাশে বিস্তৃত ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবনের অংশ দেখা যায়। সুন্দরবনের প্রকৃতি এবং সীমান্তবর্তী অরণ্যের পরিবেশ কাছ থেকে অনুভব করার সুযোগ মেলে এখানে। তাই যাঁরা একটু নিরিবিলি ও ব্যতিক্রমী জায়গায় ঘুরতে পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে বুড়ির ডাবরি হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য।

কীভাবে যাবেন বুড়ির ডাবরি?

কলকাতা থেকে বুড়ির ডাবরি যাওয়ার জন্য প্রথমে শিয়ালদা স্টেশন থেকে ট্রেনে ক্যানিং পৌঁছতে হবে।এরপর ক্যানিং থেকে অটো বা স্থানীয় পরিবহণে সোনাখালি যেতে হবে। সেখান থেকে লঞ্চ কিংবা ভুটভুটি নৌকায় শুরু হবে সুন্দরবনের জলপথের যাত্রা। নদী ও খাঁড়ির বুক চিরে এগিয়ে যেতে যেতে চোখে পড়বে সুন্দরবনের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য।তবে এই ভ্রমণের জন্য আগে থেকেই অভিজ্ঞ ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাতায়াত, অনুমতি এবং বন দফতরের প্রয়োজনীয় পাসের ব্যবস্থা করে নেওয়া উচিত।

 ক্যাম্পের পাশেই বাঘ, হরিণ, কুমিরের আনাগোনা! এক জায়গা থেকেই দেখা যাবে ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন, ঘুরে আসুন রহস্যময় বুড়ির ডাবরি
একই জায়গা থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন দেখার সুযোগ

বুড়ির ডাবরির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অবস্থান। এখান থেকে একদিকে ভারতের সুন্দরবন, অন্যদিকে বাংলাদেশের সুন্দরবনের অংশ দেখতে পাওয়া যায়।সীমান্তের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে দুই দেশের বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ অরণ্য দেখার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। সুন্দরবনের প্রকৃতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তের এই অবস্থান জায়গাটিকে অন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলির তুলনায় আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

বাঘ, হরিণ ও কুমির দেখার রোমাঞ্চ

সুন্দরবন মানেই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ এবং কুমিরের মতো বন্যপ্রাণীর রাজত্ব। বুড়ির ডাবরিও তার ব্যতিক্রম নয়।এই অঞ্চলের জঙ্গলে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর বসবাস রয়েছে। ভাগ্য সহায় হলে পর্যটকদের চোখে পড়তে পারে হরিণ বা অন্যান্য প্রাণী। তবে বাঘ কিংবা কুমির দেখার কোনও নিশ্চয়তা নেই। বন্যপ্রাণী তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে থাকে, তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বন দফতরের নির্দেশ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

 ক্যাম্পের পাশেই বাঘ, হরিণ, কুমিরের আনাগোনা! এক জায়গা থেকেই দেখা যাবে ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন, ঘুরে আসুন রহস্যময় বুড়ির ডাবরি
জঙ্গলের ভিতরের রাস্তা ও ওয়াচ টাওয়ার

বুড়ির ডাবরির আরও একটি আকর্ষণ জঙ্গলের ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা। চারপাশে ঘন গাছপালা, নিস্তব্ধ পরিবেশ আর অরণ্যের রহস্যময় আবহ—এই পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রোমাঞ্চপ্রেমীদের ভালো লাগবে।এখানে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে আশপাশের জঙ্গল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকলেও বন দফতরের অনুমতি ছাড়া কোনও নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করা উচিত নয়।

কোথায় থাকবেন? গোসাবায় রাত্রিবাসের পরিকল্পনা

বুড়ির ডাবরি ঘুরে ফিরে এসে গোসাবায় রাত্রিবাসের পরিকল্পনা করতে পারেন। সেখানে বিভিন্ন পর্যটন-আবাসন ও হোমস্টের খোঁজ নিতে পারেন।কম সময়ের মধ্যে সুন্দরবনের একটি বিশেষ অংশ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা থাকলে এই জায়গাটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে থাকার জায়গা, নৌযাত্রা এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা আগে থেকে বুক করে নেওয়া ভালো।

যাওয়ার আগে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন

বুড়ির ডাবরি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অংশ। তাই সাধারণ পর্যটনকেন্দ্রের মতো ইচ্ছেমতো ঘোরাফেরা করা যায় না।

- যাওয়ার আগে বন দফতরের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় পাস সংগ্রহ করুন।

- নির্ভরযোগ্য ও অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের সাহায্য নিন।

- বনাঞ্চলে নির্ধারিত পথের বাইরে যাবেন না।

- বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করবেন না বা খাবার দেবেন না।

- ক্যামেরা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন।

- জলপথে যাত্রার সময় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলুন।

বিশেষ বিষয় হল, বুড়ির ডাবরি যাওয়ার পর সেখান থেকে আর জলপথে ভারতীয় সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। এই এলাকাতেই ভারতীয় জলপথের নির্দিষ্ট যাত্রাপথের শেষ সীমা।

 ক্যাম্পের পাশেই বাঘ, হরিণ, কুমিরের আনাগোনা! এক জায়গা থেকেই দেখা যাবে ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন, ঘুরে আসুন রহস্যময় বুড়ির ডাবরি
চেনা পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির কোলে কয়েকটা দিন কাটাতে চান? তাহলে ঘুরে আসতে পারেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের বুড়ির ডাবরি ফরেস্ট ক্যাম্পে। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের অন্তর্গত এই জায়গার বিশেষ আকর্ষণ হল ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবনের অংশ একসঙ্গে দেখার সুযোগ। রয়েছে ঘন ম্যানগ্রোভ অরণ্য, ওয়াচ টাওয়ার এবং বাঘ, হরিণ ও কুমিরের মতো বন্যপ্রাণীর দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা। কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কী কী দেখবেন, রইল সম্পূর্ণ ভ্রমণ গাইড।

Leave a comment