শান্তিনিকেতনে ফের বসছে ঐতিহ্যের পৌষমেলা! গত বছরের মতো এবারও ৬ দিন চলবে উৎসব, কবে থেকে শুরু অনলাইন স্টল বুকিং? জানুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা ২০২৬ এবারও হবে ছ'দিনের। পূর্বপল্লির মাঠে বসবে মেলা। ১৫ নভেম্বর থেকে অনলাইন স্টল বুকিং, পর্যটকদের জন্য পৃথক ওয়েবসাইটের পরিকল্পনা।

বাঙালির শীতকাল মানেই পৌষমেলার আনন্দ। শান্তিনিকেতনের লাল মাটির দেশ, বাউল গান, লোকসংস্কৃতি, হস্তশিল্প আর নানা স্বাদের খাবারের টানে প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন এই মেলায়। এবারও সেই চেনা আবহে ফিরতে চলেছে বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। ২০২৬ সালের মেলা নিয়ে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছরের মতো এবারও ছ'দিনের মেলার আয়োজন করা হবে। কিন্তু কবে শুরু হচ্ছে মেলা? কোথায় বসবে স্টল? কীভাবে হবে বুকিং? জেনে নিন বিস্তারিত।

 শান্তিনিকেতনে ফের বসছে ঐতিহ্যের পৌষমেলা! গত বছরের মতো এবারও ৬ দিন চলবে উৎসব, কবে থেকে শুরু অনলাইন স্টল বুকিং? জানুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
৬ দিনের পৌষমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত বিশ্বভারতীর

শান্তিনিকেতনের পৌষমেলাকে ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২৬ সালের আয়োজন নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সভাকক্ষে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এবং বীরভূম জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, গত বছরের মতো এবারও ছ'দিন ধরে চলবে পৌষমেলা। অর্থাৎ মেলার সময়সীমা নিয়ে আপাতত কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না।

পূর্বপল্লির মাঠেই বসবে মেলার আসর

প্রথা মেনেই এবারও শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লির মেলার মাঠে আয়োজন করা হবে পৌষমেলা। মেলার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে বিশ্বভারতীকে সহযোগিতা করবে বীরভূম জেলা প্রশাসন।এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ, ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব বিকাশ মুখোপাধ্যায়, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন এবং জেলা পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ। ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিয়েছিলেন বোলপুরের মহকুমাশাসক ব্রততী দত্ত-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।

 শান্তিনিকেতনে ফের বসছে ঐতিহ্যের পৌষমেলা! গত বছরের মতো এবারও ৬ দিন চলবে উৎসব, কবে থেকে শুরু অনলাইন স্টল বুকিং? জানুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
১৫ নভেম্বর থেকে শুরু অনলাইন স্টল বুকিং

এবারের পৌষমেলায় ব্যবসায়ীদের জন্য থাকছে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্টল বুকিংয়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হবে।আগামী ১৫ নভেম্বর থেকেই স্টল বুকিংয়ের আবেদন গ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে স্টল সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।বিশেষ করে বাংলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গ্রামীণ শিল্পী এবং হস্তশিল্পীদের এবারের মেলায় বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলার লোকশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

পর্যটকদের জন্য তৈরি হচ্ছে পৃথক ওয়েবসাইট

পৌষমেলায় আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্বভারতী।শুধুমাত্র পৌষমেলাকে কেন্দ্র করে একটি পৃথক ওয়েবসাইট চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে মেলার যাবতীয় তথ্য, স্টল বুকিংয়ের নিয়ম, প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা এবং নতুন আপডেট পাওয়া যাবে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকী বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরাও সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।

 শান্তিনিকেতনে ফের বসছে ঐতিহ্যের পৌষমেলা! গত বছরের মতো এবারও ৬ দিন চলবে উৎসব, কবে থেকে শুরু অনলাইন স্টল বুকিং? জানুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মেলা শেষের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার হবে মাঠ

পৌষমেলা শেষ হওয়ার পর মেলার মাঠের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার বিশেষ সতর্ক বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।সিদ্ধান্ত হয়েছে, মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ মেলার মাঠ পরিষ্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। মাঠের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় এবার আরও কঠোর নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।বিশ্বভারতী ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এবারের পৌষমেলাকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ করে তোলাই প্রধান লক্ষ্য।

 শান্তিনিকেতনে ফের বসছে ঐতিহ্যের পৌষমেলা! গত বছরের মতো এবারও ৬ দিন চলবে উৎসব, কবে থেকে শুরু অনলাইন স্টল বুকিং? জানুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা ২০২৬-এর প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। গত বছরের মতো এবারও মোট ছ'দিন ধরে চলবে মেলা। পূর্বপল্লির মেলার মাঠেই বসবে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আসর। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হবে স্টল বুকিংয়ের অনলাইন প্রক্রিয়া। বাংলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হস্তশিল্পীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মেলার জন্য তৈরি হচ্ছে পৃথক ওয়েবসাইট।

Leave a comment