যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা OpenAI-কে ঘিরে নিয়ন্ত্রক নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে। একাধিক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কোম্পানিটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন এবং ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবস্থাপনা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা এবং বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত অভ্যন্তরীণ নথি চেয়েছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাব ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার OpenAI-কে সমন পাঠিয়ে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নথি ও রেকর্ড জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তে বিশেষভাবে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা, শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, New York এবং Colorado-সহ একাধিক অঙ্গরাজ্য এই তদন্তে অংশ নিয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
OpenAI এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলদের উত্থাপিত উদ্বেগকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং তদন্তে গঠনমূলক সহযোগিতা করবে। কোম্পির দাবি, ChatGPT-এর নতুন সংস্করণগুলোতে শিশুদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের মতো সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
কোম্পানি আরও স্বীকার করেছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে সমাজে এখনও বহু প্রশ্ন রয়েছে এবং সে কারণে তারা তাদের সিস্টেম উন্নত করার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে AI প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ওপর AI-এর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগ সামনে এসেছে। পাশাপাশি AI-সৃষ্ট জালিয়াতি, ভুয়া কনটেন্ট এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI মডেল যত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে, ততই এর ব্যবহার ও উন্নয়নের জন্য স্পষ্ট নিয়ম এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এবং অঙ্গরাজ্য উভয় স্তরেই AI নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে। সম্প্রতি প্রশাসন AI কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন নির্দেশিকা এবং তদারকি ব্যবস্থার ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য AI ব্যবহারের ওপর একাধিক নতুন বিল উত্থাপন করেছে।
এসব প্রস্তাবিত আইনে শিশুদের চ্যাটবট ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ, বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং কপিরাইট-সুরক্ষিত সামগ্রীর সুরক্ষার মতো বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে AI-সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণে ১০০টিরও বেশি অঙ্গরাজ্য আইন কার্যকর রয়েছে।
OpenAI-র বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই তদন্তের দিকে পুরো AI শিল্প নজর রাখছে। এই তদন্ত কোম্পানির নীতিমালার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।









