পর্দায় কখনও কঠোর শাশুড়ি, কখনও দাপুটে চরিত্র—অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু ক্যামেরার বাইরে তাঁর জীবন অনেকটাই নিঃসঙ্গ। প্রায় চার দশক ধরে একাই বসবাস করছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। একসময় একা বাড়িতে ফিরতেও ভয় পেতেন, নিরাপত্তারক্ষীকে দরজা পর্যন্ত সঙ্গে আসতে বলতেন। এখন সেই ভয় অনেকটাই কেটে গিয়েছে। অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, মৃত্যু নিয়ে আর কোনও আতঙ্ক নেই। তিনি হলেন ঊষা নাদকার্নি।
১৯৭৯ সালে অভিনয়ে পা
ঊষা নাদকার্নির অভিনয়জীবন শুরু হয় ১৯৭৯ সালে মারাঠি ছবি ‘সিংহাসন’-এর হাত ধরে। এরপর মারাঠি সিনেমা, হিন্দি ছবি, টেলিভিশন এবং মঞ্চ—সব ক্ষেত্রেই নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি।দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও হিন্দি টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে তাঁর সবচেয়ে পরিচিত চরিত্রগুলির একটি ‘পবিত্র রিস্তা’র সবিতা দেশমুখ।
১৯৮৭ সাল থেকে একাই থাকেন
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঊষা নাদকার্নি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি জানান, ১৯৮৭ সাল থেকেই তিনি একা বসবাস করছেন।অভিনেত্রীর কথায়, প্রথমদিকে একা থাকার বিষয়টি তাঁকে যথেষ্ট আতঙ্কিত করত। নতুন বাড়িতে আসার পর পিছন থেকে কেউ হামলা করতে পারে—এই আশঙ্কা থাকত তাঁর। তাই নিরাপত্তারক্ষীকে দরজা পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে যেতেন।তবে এত বছর একা থাকার পর সেই ভয় আর নেই। এখন একাকীত্বের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন অভিনেত্রী।
এখন আর মৃত্যুকে ভয় পান না
তাঁর নিজেরও এখন মৃত্যুকে নিয়ে কোনও ভয় নেই। বরং একা থাকার বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশীরা প্রয়োজন হলে দরজায় কড়া নাড়বেন—এই বিশ্বাসও রয়েছে তাঁর।
বিয়ে ভেঙেছিল কয়েক বছরেই
১৯৭০ সালে রবীন্দ্র নাদকার্নিকে বিয়ে করেছিলেন ঊষা। তবে সেই দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কয়েক বছর পরই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।কেন তাঁদের সম্পর্ক ভেঙেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি অভিনেত্রী। তবে নিজের পরিবারের প্রতি কোনও রাগ বা বিদ্বেষ নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।
ছেলে বড় হয়েছেন মামার বাড়িতে
ঊষার ব্যক্তিগত জীবনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁর ছেলে। অভিনেত্রীর কথায়, তাঁর ভাইয়ের বাড়ি তুলনামূলকভাবে বড় হওয়ায় ছেলে সেখানে বড় হয়ে ওঠেন।এই কারণেই মায়ের সঙ্গে ছেলের সম্পর্কের সমীকরণ কিছুটা আলাদা হয়ে যায়। পুরনো এক সাক্ষাৎকারে ঊষা জানিয়েছিলেন, তাঁর ছেলে কখনও কখনও এমন কথাও বলেন যে, জন্মদাত্রী হলেও তিনিই তাঁর একমাত্র মা-সুলভ অভিভাবক ছিলেন না।
‘পবিত্র রিস্তা’য় দাপুটে অভিনয়
‘পবিত্র রিস্তা’ ধারাবাহিকে সবিতা দেশমুখের চরিত্রে অভিনয় করে ঊষা নাদকার্নি ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন। মানবের কর্তৃত্বপরায়ণ মা হিসেবে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল।চরিত্রটি ছিল কঠোর এবং প্রভাবশালী। ঊষার বলিষ্ঠ অভিনয় সেই চরিত্রকে হিন্দি টেলিভিশনের স্মরণীয় চরিত্রগুলির মধ্যে জায়গা করে দেয়।
মারাঠি ও হিন্দি ছবিতেও কাজ
টেলিভিশনের পাশাপাশি বড় পর্দাতেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ঊষা। ‘হেচ মাঝা মাহের’, ‘নাশিবওয়ান’, ‘মাহেরচি সাদি’, ‘জামলা হো জামলা’, ‘দেওল’, ‘ভেন্টিলেটর’ এবং ‘মাঝা আগদবাম’-এর মতো মারাঠি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।হিন্দি ছবির তালিকাতেও রয়েছে ‘গুন্ডারাজ’, ‘কৃষ্ণা কটেজ’, ‘ভূতনাথ রিটার্নস’ এবং ‘রুস্তম’-এর মতো সিনেমা।
‘বিগ বস মারাঠি’তেও ছিলেন
২০১৮ সালে ‘বিগ বস মারাঠি’র প্রথম সিজনে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন ঊষা নাদকার্নি। তাঁর স্পষ্টবাদী স্বভাব এবং দৃঢ় ব্যক্তিত্ব রিয়্যালিটি শোতেও দর্শকদের নজর কেড়েছিল।যদিও শেষ পর্যন্ত সেই সিজনের বিজয়ী হতে পারেননি তিনি, তবুও তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
চার দশকের একাকীত্বেও নিজের মতো ঊষা
৮০ বছর বয়সে দাঁড়িয়েও নিজের জীবন নিয়ে স্পষ্ট ঊষা নাদকার্নি। দীর্ঘ ৩৯ বছরের একাকীত্ব তাঁকে ভেঙে দেয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে নিজের ভয়, অভ্যাস এবং পরিস্থিতিকে মেনে নিয়েছেন।পর্দায় দাপুটে ব্যক্তিত্বের এই অভিনেত্রীর বাস্তব জীবন অবশ্য অনেক বেশি নিঃসঙ্গ। তবুও মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে নিজের মতো করে জীবন কাটিয়ে চলেছেন তিনি।
টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ঊষা নাদকার্নি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক জনপ্রিয় চরিত্রে নজর কেড়েছেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন একেবারেই আলাদা। ১৯৮৭ সাল থেকে একাই থাকছেন অভিনেত্রী। ছেলে বিদেশে এবং পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারানোর পরও নিজের জীবন নিজের মতো করেই কাটাচ্ছেন তিনি। এমনকি এখন মৃত্যুকেও আর ভয় পান না।








