Guess the Actress: একাধিক প্রেম, মানসিক যন্ত্রণা, শেষে একা ফ্ল্যাটে মৃত্যু! বলিউডের এই নায়িকার করুণ পরিণতি আজও শিহরণ জাগায়

পারভিন ববির জীবনের অজানা কাহিনি। একাধিক সম্পর্ক, বলিউডের সাফল্য, মানসিক যন্ত্রণা এবং ২০০৫ সালে একাকী অবস্থায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর পুরো গল্প জানুন।

সত্তরের দশকে বলিউডের পর্দায় আধুনিকতার নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছিলেন তিনি। গ্ল্যামার, সাহসী অভিনয় এবং নিজস্ব স্টাইলের জন্য খুব অল্প সময়েই হয়ে উঠেছিলেন দর্শকদের প্রিয়। কিন্তু সেই ঝলমলে জীবনের আড়ালেই জমেছিল গভীর অন্ধকার। একাধিক সম্পর্ক থেকে শুরু করে মানসিক যন্ত্রণা—জীবনের শেষদিকে ক্রমশ নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। শেষপর্যন্ত একাকী অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। তিনি আর কেউ নন, বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী পারভিন ববি।

সত্তরের দশকে বলিউডে ঝড় তুলেছিলেন পারভিন

১৯৭০-এর দশকে হিন্দি সিনেমায় পারভিন ববির আবির্ভাব ছিল একেবারেই আলাদা। পাশ্চাত্য ধাঁচের পোশাক, আধুনিক ফ্যাশন এবং আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে তিনি সেই সময়ের প্রচলিত নায়িকার ধারণাকে বদলে দিয়েছিলেন।একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে খুব দ্রুতই তিনি বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের মধ্যে জায়গা করে নেন। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি যেমন নজর কাড়ত, তেমনই ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ।

একাধিক সম্পর্ক ঘিরে চর্চায় ছিলেন অভিনেত্রী

পারভিন ববির ব্যক্তিগত জীবনও কম আলোচিত ছিল না। চলচ্চিত্র পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক একসময় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে। সেই সময় মহেশ ভাট বিবাহিত থাকায় সম্পর্কটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।পরবর্তীকালে মহেশ ভাট জানিয়েছেন, পারভিনের জীবনের কঠিন সময়ে তিনি তাঁর পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অভিনেত্রীর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।

মানসিক সমস্যাই হয়ে উঠেছিল জীবনের বড় লড়াই

জীবনের শেষ কয়েক বছর পারভিন ববি গুরুতর মানসিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর আচরণে সন্দেহপ্রবণতা এবং নিরাপত্তাহীনতার ছাপ দেখা যেত।মহেশ ভাটের বর্ণনা অনুযায়ী, কখনও কখনও পারভিন মনে করতেন তাঁর উপর নজরদারি করা হচ্ছে কিংবা তাঁকে কেউ ক্ষতি করতে চাইছে। এই পরিস্থিতি তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপনকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।

হঠাৎ করেই বলিউড থেকে দূরে সরে গেলেন

কর্মজীবনের সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থাতেই পারভিন ধীরে ধীরে সিনেমা এবং প্রচারের আলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। চিকিৎসা, ব্যক্তিগত শান্তি এবং আধ্যাত্মিকতার সন্ধানে তিনি বিদেশেও সময় কাটান।একসময় যাঁকে নিয়মিত পর্দায় দেখা যেত, সেই অভিনেত্রী পরবর্তীতে জনসমক্ষে কার্যত অদৃশ্য হয়ে যান। তাঁর চেহারা ও শারীরিক পরিবর্তন নিয়েও তখন নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল।

জীবনের শেষ অধ্যায়ে আরও বাড়ে নিঃসঙ্গতা

খ্যাতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর পারভিনের জীবন হয়ে ওঠে অত্যন্ত নিঃসঙ্গ। একসময় যে অভিনেত্রীকে ঘিরে ছিল অসংখ্য মানুষের ভিড়, জীবনের শেষ পর্যায়ে তাঁর চারপাশে সেই পরিচিত জগত আর ছিল না।মানসিক অস্থিরতা, একাকীত্ব এবং শারীরিক অবনতির মধ্যে দিন কাটছিল তাঁর। ক্রমশ তিনি নিজের ব্যক্তিগত জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন।

২০০৫ সালে একাকী অবস্থায় উদ্ধার হয় দেহ

২০০৫ সালের জানুয়ারিতে মুম্বইয়ের জুহুর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পারভিন ববির দেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় দরজার সামনে দুধ ও সংবাদপত্র পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁর ফ্ল্যাটে গিয়ে অভিনেত্রীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৫০ বছর। মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর বলিউডে নেমে আসে শোকের ছায়া। তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্রাক্তন সঙ্গী কবির বেদী, মহেশ ভাট এবং ড্যানি ডেনজংপা-সহ হাতে গোনা কয়েকজন।

শেষটা এমন হবে, ভাবেনি কেউ

পারভিন ববির জীবন যেন বলিউডের চাকচিক্য এবং তার আড়ালে থাকা এক গভীর বাস্তবতার গল্প। সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেও ব্যক্তিগত যন্ত্রণা এবং নিঃসঙ্গতা তাঁকে শেষ পর্যন্ত গ্রাস করেছিল।আজও তাঁর অভিনয়, স্টাইল এবং ব্যক্তিত্ব ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছে। তবে তাঁর মর্মান্তিক শেষ জীবন মনে করিয়ে দেয়—তারকার ঝলমলে জীবনের আড়ালেও কখনও কখনও লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর অন্ধকার।

একসময় বলিউডের অন্যতম গ্ল্যামারাস ও সাহসী অভিনেত্রী ছিলেন পারভিন ববি। একাধিক সম্পর্ক, খ্যাতির শীর্ষে ওঠা এবং পরবর্তীতে মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর সংকট—জীবনের শেষ অধ্যায় ছিল অত্যন্ত নিঃসঙ্গ। ২০০৫ সালে মুম্বইয়ের নিজের ফ্ল্যাট থেকে একাকী অবস্থায় উদ্ধার হয় তাঁর দেহ।

Leave a comment