উত্তর প্রদেশে মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়ায় তীব্র গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বেড়েছে। আবহাওয়া বিভাগ সোমবার রাজ্যের ৩৮টি জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে মউ, গাজীপুর, বলিয়া, চন্দৌলি এবং সোনভদ্র জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
জুনের শেষ সপ্তাহেও উত্তর প্রদেশে মৌসুমি বায়ুর অপেক্ষা অব্যাহত রয়েছে। সাধারণত ২০ জুনের মধ্যে রাজ্যে পৌঁছে যাওয়া মৌসুমি বায়ু এবার উত্তর প্রদেশ-বিহার সীমান্তের কাছে আটকে রয়েছে। এর ধীরগতির প্রভাব আবহাওয়ায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় প্রখর রোদ, গরম হাওয়া এবং আর্দ্রতা জনজীবনে প্রভাব ফেলছে।
সোমবার সকাল থেকেই একাধিক জেলায় তীব্র রোদ দেখা গেছে। আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও গরম থেকে স্বস্তি মেলেনি। আবহাওয়া বিভাগের মতে, আগামী তিন দিন রাজ্যে তীব্র গরম অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া বিভাগ রাজ্যের ৩৮টি জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে পূর্ব উত্তর প্রদেশের মউ, গাজীপুর, বলিয়া, চন্দৌলি এবং সোনভদ্র জেলায় হালকা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
![]()
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টিপাতের কার্যকলাপ সীমিত থাকায় গরম ও আর্দ্রতা থেকে উল্লেখযোগ্য স্বস্তির সম্ভাবনা কম। একাধিক জেলায় দুপুরের সময় প্রবল গরম হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় প্রয়াগরাজ রাজ্যের উষ্ণতম শহর ছিল, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বারাণসীতে ৪২.৪ ডিগ্রি, বহরাইচে ৪২ ডিগ্রি এবং ঝাঁসিতে ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে।
রাজধানী লখনউতেও গরমের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের মতে, শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। বিভাগ অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের সময় বাড়ির বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে মৌসুমি বায়ু উত্তর প্রদেশ-বিহার সীমান্তের কাছে স্থির রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরে গঠিত আবহাওয়াগত ব্যবস্থার সক্রিয়তার ফলে এর অগ্রগতির সম্ভাবনা বেড়েছে।
অনুমান করা হচ্ছে, ২৩ জুনের পর মৌসুমি বায়ুর গতি বাড়তে পারে এবং ২৫ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে মহারাজগঞ্জ হয়ে উত্তর প্রদেশে প্রবেশ করতে পারে। এরপর রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাতের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাবে এবং তাপমাত্রা কমতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর বিলম্ব কৃষিকাজেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। খরিফ ফসলের বপন ব্যাহত হচ্ছে এবং বহু এলাকায় কৃষকদের সেচের জন্য টিউবওয়েলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জুনের শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে ধান, ডাল এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে।
এছাড়া খাদ্যশস্য ও সবজির দামের বৃদ্ধির আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের মতে, জুলাই ও আগস্ট মাসে বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ ও ২৪ জুন পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকায় গরমের প্রভাব বজায় থাকবে। ২৫ জুন থেকে পূর্ব উত্তর প্রদেশে বৃষ্টিপাতের কার্যকলাপ বাড়তে পারে। ২৬ ও ২৭ জুন রাজ্যের একাধিক জেলায় ভালো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে তাপমাত্রা কমতে পারে এবং গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।












