উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টকে নৈনিতাল থেকে হলদ্বানির গৌলাপার এলাকায় স্থানান্তরের জন্য প্রস্তাবিত জমি নিয়ে মামলায় আদালত সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায় সংরক্ষিত রেখেছে। আবেদনকারী পক্ষ প্রস্তাবিত এলাকাটিকে বনাঞ্চল ও হাতিদের চলাচলের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার আদালতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত জমি হাতি করিডোরের অংশ নয়।
মামলায় আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি, যেখানে নতুন হাইকোর্ট কমপ্লেক্স প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই এলাকা পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এবং সেখানে বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হাতিদের চলাচল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই ভিত্তিতে হাইকোর্ট স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
রাজ্য সরকার অবশ্য এই দাবি চ্যালেঞ্জ করে বলেছে, প্রস্তাবিত জমিকে হাতি করিডোর হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। শুনানির সময় জমির প্রকৃতি, বনাঞ্চল-সংক্রান্ত বিষয় এবং বন্যপ্রাণীর চলাচল নিয়ে সব পক্ষ নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করেছে।
নৈনিতাল থেকে হলদ্বানির গৌলাপার এলাকায় হাইকোর্ট স্থানান্তরের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। জুলাই ২০২৬-এ সুপ্রিম কোর্ট স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি বড় আইনি বাধা দূর করেছিল। শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের সেই পুরনো নির্দেশ বাতিল করে, যেখানে স্থানান্তরের আগে আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মতামত জানতে গণভোটের কথা বলা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছিল, এই ধরনের পরিকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে প্রশাসনিক স্তরে নেওয়া উচিত।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হলদ্বানিতে প্রস্তাবিত নতুন হাইকোর্ট কমপ্লেক্সের জন্য চিহ্নিত জমি নিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে জমি হাইকোর্টের জন্য উপলব্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার নির্দেশও দিয়েছিল। এরপর প্রস্তাবিত স্থানের পরিবেশগত দিক নিয়ে নতুন প্রশ্ন ওঠে।
গৌলাপার এলাকায় প্রস্তাবিত হাইকোর্ট কমপ্লেক্সের জন্য প্রায় ২৬ হেক্টর জমি চিহ্নিত করার তথ্য সুপ্রিম কোর্টের শুনানির সময় সামনে এসেছিল। শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে জমি হাইকোর্টের জন্য উপলব্ধ করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বলেছিল।
মামলাটি হাইকোর্ট কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বড় ভূখণ্ড এবং তার সঙ্গে যুক্ত পরিবেশগত অনুমোদন ও বন আইনের পালনের বিষয়টির সঙ্গেও যুক্ত।
নৈনিতাল থেকে হাইকোর্ট স্থানান্তরের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে বর্তমান স্থানে জায়গার অভাব, যানজট, পার্কিং এবং যোগাযোগের মতো সমস্যা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সামনেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এসব বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছিল।
শীর্ষ আদালতের আদেশে মামলাকারী ও আইনজীবীদের সমস্যার পাশাপাশি উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার মতো বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, নৈনিতাল থেকে হাইকোর্ট সরানোর বিরোধিতা করা পক্ষগুলিরও নিজস্ব উদ্বেগ রয়েছে। তাদের বক্তব্য, স্থানান্তর শুধু ভবন নির্মাণের বিষয় নয়; এর ফলে নৈনিতালের বিচারিক পরিচয়, স্থানীয় অর্থনীতি এবং পরিবেশের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। প্রস্তাবিত জমির পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এই বৃহত্তর বিতর্কের অংশ।
এখন হাইকোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন হল, প্রস্তাবিত স্থান নিয়ে উত্থাপিত পরিবেশগত আপত্তিগুলি কতটা ভিত্তিসম্পন্ন এবং রাজ্য সরকারের এই দাবি কতটা সঠিক যে জমিটি হাতি করিডোরের অংশ নয়।
পরিবেশ-সংক্রান্ত মামলায় কোনো জমিকে হাতি করিডোর বা বন্যপ্রাণীর চলাচলের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে শুধু সাধারণ দাবি যথেষ্ট নয়। বন দফতরের রেকর্ড, বন্যপ্রাণীর চলাচল, সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং বিশেষজ্ঞ রিপোর্টের মতো নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আদালতের রায়ে এসব বিষয়ের অবস্থানও স্পষ্ট হতে পারে।
হাইকোর্ট স্থানান্তর নিয়ে এর আগেও একাধিক আইনি ও প্রশাসনিক বিতর্ক হয়েছে। ২০২৪ সালে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট স্থানান্তর ইস্যুতে গণভোটের ব্যবস্থা করেছিল, কিন্তু পরে সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ বাতিল করে।
শীর্ষ আদালত বলেছিল, হাইকোর্টের পরিকাঠামো সংক্রান্ত এই ধরনের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক স্তরে হাইকোর্ট ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নেওয়া উচিত।
বর্তমান শুনানিতে রায় সংরক্ষিত হওয়া এই বিতর্কের নতুন পর্যায়। আদালতের রায়ে স্পষ্ট হবে, প্রস্তাবিত স্থানের পরিবেশগত আপত্তিগুলি স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে কি না এবং রাজ্য সরকারের উপস্থাপিত যুক্তি গ্রহণ করা হবে কি না।
এই মুহূর্তে সব পক্ষ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। রায়ের পরই স্পষ্ট হবে, হলদ্বানিতে প্রস্তাবিত হাইকোর্ট কমপ্লেক্সের জন্য চিহ্নিত জমিতে নির্মাণের প্রক্রিয়া এগোবে কি না, অথবা পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় কোনো বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হবে কি না।
উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টকে নৈনিতাল থেকে হলদ্বানিতে স্থানান্তরের পথ সুপ্রিম কোর্টের জুলাইয়ের রায়ের পর অনেকটাই পরিষ্কার হলেও প্রস্তাবিত জমির পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে নতুন আইনি চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, জমিটি হাতি করিডোর নয়; অন্যদিকে আবেদনকারী পক্ষ বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ-সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলেছে। এখন হাইকোর্টের সংরক্ষিত রায়ের দিকে নজর রয়েছে।











