কংগ্রেস বিধায়ক কাজী নিজামুদ্দিনকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রাণনাশের হুমকি মামলা দায়ের করে তদন্তে পুলিশ

উত্তরাখণ্ডের মঙ্গলৌর বিধায়ক কাজী নিজামুদ্দিনের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর অডিও-ভিডিও ও বার্তা পাঠিয়ে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
কংগ্রেস বিধায়ক কাজী নিজামুদ্দিনকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রাণনাশের হুমকি মামলা দায়ের করে তদন্তে পুলিশ
Photo Credit / Attribution: Google

কংগ্রেস বিধায়ক কাজী নিজামুদ্দিনের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি আপত্তিকর অডিও-ভিডিও ও বার্তা পাঠিয়ে অশোভন ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশকে দেওয়া অভিযোগে বিধায়ক জানিয়েছেন, তাঁর মোবাইল নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আপত্তিকর সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, পাঠানো অডিও-ভিডিও ও বার্তায় তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুতর পরিণতি ভোগ করা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে। এখনও অভিযুক্তের পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি। হুমকি কোন মোবাইল নম্বর বা ডিজিটাল মাধ্যম থেকে পাঠানো হয়েছে, বার্তা প্রেরণকারী কে এবং তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো ভিডিও ও অডিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। মোবাইল নম্বর, বার্তা এবং অন্যান্য উপলব্ধ ইলেকট্রনিক প্রমাণ পরীক্ষা করে হুমকি পাঠানো ব্যক্তি কোথা থেকে এবং কী উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করেছিল, তা জানার চেষ্টা করা হবে।

কাজী নিজামুদ্দিন মঙ্গলৌর বিধানসভা আসনের কংগ্রেস বিধায়ক। এর আগেও তিনি এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে সক্রিয় ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রকাশ্য ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা গেছে।

বিধায়ক স্থানীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সক্রিয় থাকার সময়ই এই হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। কয়েক দিন আগে তিনি ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত কথিত জাল নথির বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে তদন্তের দাবি করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কোনও ব্যক্তির নাম কথিতভাবে অপব্যবহার করে নথি দাখিল করা হয়েছে।

তবে পুলিশ এখনও স্পষ্ট করেনি যে হুমকির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে কি না বা এর পেছনে ব্যক্তিগত কোনও কারণ রয়েছে কি না। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সমস্ত সম্ভাব্য দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।

বিধায়কের অভিযোগে শুধু প্রাণনাশের হুমকিই নয়, আপত্তিকর সামগ্রী পাঠিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এবং অশোভন ভাষা ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

ডিজিটাল মাধ্যমে জন প্রতিনিধিদের হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা পুলিশের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় ইলেকট্রনিক প্রমাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইল ও ইন্টারনেট রেকর্ডও পরীক্ষা করা হয়।

এই ঘটনাতেও পুলিশ খতিয়ে দেখবে, হুমকি দেওয়া ব্যক্তি বিধায়ককে আগে থেকেই চিনত কি না অথবা কোনও বিরোধ বা রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে তাঁকে লক্ষ্য করা হয়েছিল কি না। হুমকির পেছনে কোনও সংগঠিত ষড়যন্ত্র বা অন্য কারও ভূমিকা পাওয়া গেলে তদন্তের পরিধি বাড়তে পারে।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় বিধায়ক ও তাঁর সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগের পরিস্থিতি রয়েছে। তবে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার বা হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে পুলিশ এখনও কোনও চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি।

তদন্তের সময় পাঠানো ভিডিওতে দেখা ব্যক্তি সত্যিই সেই ব্যক্তি কি না, অথবা শুধু হুমকি দেওয়ার জন্য ভিডিওটি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। ডিজিটাল ভিডিওর সত্যতা ও উৎস যাচাই তদন্তের অংশ হতে পারে।

উত্তরাখণ্ডে জন প্রতিনিধিদের পাওয়া হুমকির ঘটনায় এর আগেও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পাশাপাশি হুমকি বাস্তব বিপদে পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করার দিকেও নজর দেয়।

কাজী নিজামুদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তের পরিচয়, হুমকির কারণ এবং পাঠানো অডিও-ভিডিওর সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

Leave a comment