হলদ্বানি ও আশপাশের এলাকায় এনালগ দুগ্ধজাত পণ্যের বিক্রয় ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে খাদ্য নিরাপত্তা দফতর অভিযান শুরু করেছে। পনির, ঘি ও মাখনের মতো পণ্যের উৎপাদন, মজুত, পরিবহণ ও বিক্রয় পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বাজার, দুগ্ধজাত পণ্যের দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য খাদ্যপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হচ্ছে।
এনালগ পনির সাধারণ পনির থেকে আলাদা। এটি অনেক সময় দুধের পরিবর্তে বা দুধের সঙ্গে উদ্ভিজ্জ চর্বি ও অন্যান্য অ-দুগ্ধ উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। সমস্যা দেখা দেয় যখন এই ধরনের পণ্য সম্পর্কে গ্রাহককে স্পষ্ট তথ্য না দিয়ে সাধারণ পনির হিসেবে বিক্রি করা হয় বা খাবারে ব্যবহার করা হয়। এই কারণে খাদ্য নিরাপত্তা দফতর সংশ্লিষ্ট পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নজরদারি বাড়িয়েছে।
সরকারের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু সন্দেহজনক পনির বাজার থেকে সরানো নয়, গ্রাহক যে পণ্য কিনছেন সেটি প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের, সেই তথ্য নিশ্চিত করাও। সন্দেহজনক পণ্যের উৎস শনাক্ত করার জন্য সরবরাহ শৃঙ্খলের তথ্যও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
আদেশ জারির পর হলদ্বানি ও আশপাশের এলাকায় দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রির দোকানগুলিতে খাদ্য নিরাপত্তা দফতরের দল পরিদর্শন শুরু করেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে পনির ও ঘির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর তথ্য সামনে এসেছে। একটি গাড়ি থেকেও পনির ও দেশি ঘির নমুনা নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা দফতরের নজরদারি শুধু দোকানে সীমাবদ্ধ নয়। হোটেল, রেস্তোরাঁ, ধাবা ও ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সবজি, গ্রেভি, স্ন্যাকস ও অন্যান্য খাবারে বিপুল পরিমাণ পনির ব্যবহার করা হয়। তাই ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করা পনির কোন উৎস থেকে এসেছে এবং তার গুণমান নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হতে পারে।
বাজার থেকে পনির কেনার সময় অনেক গ্রাহক বুঝতে পারেন না পণ্যটি আসল দুধ দিয়ে তৈরি নাকি অন্য উপাদান ব্যবহার করে তৈরি। এনালগ পণ্য অনেক সময় দেখতে সাধারণ পনিরের মতো হওয়ায় শুধু দেখে তা শনাক্ত করা সাধারণ গ্রাহকের পক্ষে সহজ নয়।
এই কারণে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় লেবেলিং এবং সরবরাহের রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ। প্যাকেটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নাম, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও প্যাকিং-সংক্রান্ত তথ্য দেখা যায়। তদন্তের সময় দফতর এই তথ্যের ভিত্তিতে পণ্যের উৎস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এনালগ দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়েও আলোচনা বেড়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এনালগ পনিরের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ে FSSAI এবং রাজ্যগুলির কাছে তথ্য চেয়েছে। এর পুষ্টিগত গঠন, নিয়ন্ত্রক অবস্থান, পরীক্ষার প্রক্রিয়া এবং স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে কমিশন প্রতিবেদন চেয়েছে।
তবে প্রতিটি এনালগ পণ্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিষাক্ত বা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা সঠিক নয়। কোনও খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা ব্যবহৃত উপাদান, উৎপাদন প্রক্রিয়া, পরিচ্ছন্নতা এবং নির্ধারিত খাদ্যমান মেনে চলার ওপর নির্ভর করে। মূল উদ্বেগ তৈরি হয় যখন কোনও অ-দুগ্ধ পণ্যকে আসল দুধ থেকে তৈরি পনির হিসেবে বিক্রি করা হয় অথবা গ্রাহককে তার প্রকৃত ধরন সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয় না।
খাদ্য নিরাপত্তা দফতর এই ধরনের ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করাতে পারে। পরীক্ষায় কোনও পণ্য নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে খাদ্য নিরাপত্তা আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। গুরুতর লঙ্ঘন পাওয়া গেলে পণ্য বাজেয়াপ্ত করা থেকে শুরু করে অন্যান্য আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
উৎসবের মরশুমের কথাও মাথায় রেখে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। উৎসব এবং বিয়ের মরশুমে পনির, খোয়া, ঘি, দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ে। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে ভেজাল বা নিম্নমানের পণ্যের আশঙ্কাও বাড়তে পারে। ফলে খাদ্য দফতরের সামনে বাজারে ধারাবাহিক নজরদারির চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
হোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিচালকদেরও তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত পনির ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের ক্রয়সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করা জরুরি। কোনও প্রতিষ্ঠানে সন্দেহজনক পণ্য পাওয়া গেলে সরবরাহকারী এবং ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত নথি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সরকারের এই পদক্ষেপের পর গ্রাহকদেরও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া পনির কেনার সময় তার গুণমান, গন্ধ, গঠন এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতার দিকে নজর দেওয়া উচিত। প্যাকেটজাত পণ্য কেনার সময় লেবেল, প্রস্তুতকারকের নাম, ব্যাচ নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা ভালো।
তবে কোনও খাদ্যপণ্যের গুণমান শুধু দেখে নির্ধারণ করা যায় না। কোনও পণ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা দফতরে অভিযোগ করা যেতে পারে। সন্দেহজনক পণ্য নিজে রাসায়নিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা বা খাওয়ার পর অসুস্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট দফতরকে তথ্য দেওয়া বেশি নিরাপদ।
উত্তরাখণ্ডে এই অভিযানের একটি উদ্দেশ্য খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা বাড়ানোও। বাজারে পনিরের নামে ভিন্ন প্রকৃতির কোনও পণ্য বিক্রি হলে গ্রাহককে তার সঠিক তথ্য দিতে হবে। একইভাবে হোটেল বা রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত পণ্যের গুণমান নিশ্চিত করার দায়িত্ব ব্যবসায়ীদেরও।
খাদ্য নিরাপত্তা দফতরের সামনে এখন ধারাবাহিক ও কার্যকর নজরদারি বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শুধু কয়েকটি দোকানে অভিযান চালিয়ে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে না। উৎপাদন ইউনিট, সরবরাহকারী, পরিবহণের গাড়ি, পাইকারি বিক্রেতা, দুগ্ধজাত পণ্যের দোকান এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল পরীক্ষা করতে হবে।
উত্তরাখণ্ডের মতো পর্যটন রাজ্যে বিষয়টি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। নৈনিতাল, হলদ্বানি, দেরাদুন, হরিদ্বার, ঋষিকেশ এবং অন্যান্য পর্যটন এলাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁর সংখ্যা বেশি এবং বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরা স্থানীয় বাজারে পাওয়া খাদ্যপণ্যের ওপর নির্ভর করেন। ফলে খাদ্যমানের ওপর কঠোর নজরদারি পর্যটন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও প্রয়োজনীয়।
বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তা দফতর অভিযান জোরদার করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে পনির ও ঘির নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী দিনে পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাজারে কতগুলি পণ্য নির্ধারিত মান পূরণ করছে এবং কোন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা জানা যাবে।
উত্তরাখণ্ডে এনালগ পনির বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞার পর খাদ্য নিরাপত্তা দফতরের অভিযান চলছে। এর উদ্দেশ্য বাজারে আসল ও অ-দুগ্ধ পণ্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা এবং গ্রাহককে ভুল তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রির প্রবণতা রোধ করা।











