দিল্লি থেকে সিলিগুড়ির যুবক গ্রেফতার, ISI-সংশ্লিষ্ট FICN নেটওয়ার্কের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে STF

পশ্চিমবঙ্গ STF দিল্লি থেকে সিলিগুড়ির এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ISI-সংশ্লিষ্ট কথিত নেটওয়ার্কের হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে FICN বা জাল ভারতীয় মুদ্রার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিল্লি থেকে সিলিগুড়ির যুবক গ্রেফতার, ISI-সংশ্লিষ্ট FICN নেটওয়ার্কের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে STF
Photo Credit / Attribution: Google

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) সিলিগুড়ির এক যুবককে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্তপারের কথিত গুপ্তচরবৃত্তি এবং জাল ভারতীয় মুদ্রার সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের তদন্তে এই গ্রেফতারিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ STF মামলাটির তদন্ত করছে। সিলিগুড়ির ওই যুবক কীভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমে কী ধরনের কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টির সূত্র ISI-সংশ্লিষ্ট জাল ভারতীয় নোটের নেটওয়ার্ক পর্যন্ত পৌঁছনোর আশঙ্কার কথা সামনে এসেছে।

STF বেশ কিছুদিন ধরে সন্দেহভাজন ব্যক্তির কার্যকলাপের ওপর নজর রাখছিল বলে জানা গেছে। পরে দিল্লিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর দলটি অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁর মোবাইল ফোন, যোগাযোগ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণও খতিয়ে দেখছে।

পশ্চিমবঙ্গে কথিত ISI নেটওয়ার্ক নিয়ে STF-এর তদন্ত এগিয়ে চলার সময় এই অভিযান হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে এই মামলায় সংস্থাটি একাধিক গ্রেফতার করেছে। দিল্লি থেকে সিলিগুড়ির সন্দেহভাজন ব্যক্তির গ্রেফতারিকে সেই তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, অভিযুক্তের ভূমিকা শুধুমাত্র যোগাযোগ বজায় রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, নাকি তিনি কথিত নেটওয়ার্কের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজও করছিলেন। তাঁর সংস্পর্শে আসা অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে তিনি কোনও অর্থ, নির্দেশ বা অন্য কোনও সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।

এই মামলায় জাল ভারতীয় মুদ্রার বিষয়টিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলিগুড়ির ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে STF-এর পদক্ষেপে পাকিস্তানের ISI-সংশ্লিষ্ট FICN অর্থাৎ Fake Indian Currency Notes নেটওয়ার্কের যোগসূত্রের আশঙ্কা রয়েছে। এই ধরনের নেটওয়ার্কে ভারতে জাল নোট সরবরাহ এবং বিভিন্ন স্থানে তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকলাপ তদন্ত করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থা অভিযুক্তের ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল রেকর্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্যান্য যোগাযোগ খতিয়ে দেখতে পারে। এর মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখতেন এবং কথিত নেটওয়ার্কের পরিধি কতটা, তা জানা যেতে পারে।

অভিযুক্ত দিল্লিতে কেন ছিলেন এবং সেখানে তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সেটিও তদন্তের বিষয়। STF তাঁর দিল্লিতে অবস্থান এবং সেই সময়ের কার্যকলাপ সম্পর্কিত রেকর্ড সংগ্রহ করছে। তদন্তে অন্য সন্দেহভাজনদের ভূমিকা সামনে এলে আগামী দিনে আরও গ্রেফতার হতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে ISI-সংশ্লিষ্ট কথিত নেটওয়ার্কের তদন্ত গত কিছু সময় ধরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। আগস্টে STF পাকিস্তানের সঙ্গে কথিতভাবে যুক্ত অন্য এক ব্যক্তি রানা রউফকেও গ্রেফতার করেছিল।

একইভাবে, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে দেশের অন্য অংশেও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট কথিত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে। দিল্লি পুলিশ জুন-জুলাই ২০২৬-এ ISI-সংশ্লিষ্ট কথিত মডিউলের একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল। তবে ওই ঘটনাগুলি পৃথক এবং এই মামলার সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগসূত্রের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হয়নি।

সিলিগুড়ি এবং উত্তরবঙ্গের এলাকা নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়। এর কাছেই ভারতের সিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’ রয়েছে, যা দেশের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে বাকি ভারতের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড। এই অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত কোনও সন্দেহজনক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের তদন্তকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। একটি প্রতিবেদনে STF-এর এই পদক্ষেপকেও এই সংবেদনশীল অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য হুমকির প্রেক্ষাপটে দেখা হয়েছে।

তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ প্রকাশ্যে স্পষ্ট করেনি যে গ্রেফতার হওয়া যুবক বাস্তবে কোন কোন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন বা অন্য কোথাও পাঠিয়েছিলেন কি না। তাই আপাতত তাঁকে সন্দেহভাজন পাকিস্তানি গুপ্তচর বা ISI-সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ থাকা অভিযুক্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই নিশ্চিত হবে।

সিলিগুড়ির সন্দেহভাজন ব্যক্তির গ্রেফতারের পর STF জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তাঁর যোগাযোগ পাকিস্তানে থাকা কোনও হ্যান্ডলারের সঙ্গে ছিল, নাকি ভারতে থাকা কোনও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তিনি নির্দেশ পেতেন, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিজিটাল ও আর্থিক তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলায় পরবর্তী পর্যায়ে গুরুতর ধারায় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। আপাতত অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁর কথিত যোগাযোগ ও কার্যকলাপ খতিয়ে দেখছে। দিল্লি থেকে এই গ্রেফতারির মাধ্যমে কথিত ISI নেটওয়ার্কের আরও একটি যোগসূত্র সামনে আসার দাবি করা হয়েছে। তদন্তের পরই অভিযুক্তের প্রকৃত ভূমিকা এবং নেটওয়ার্কটির বিস্তার স্পষ্ট হবে।

Leave a comment