উত্তরাখণ্ডে ভোটার তালিকার বিশেষ গহন পুনর্বিবেচনা বা SIR-কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য দাখিল হওয়া আপত্তির পরিসংখ্যানে একটি বিশেষ প্রবণতা সামনে এসেছে। উপলব্ধ তথ্যের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাজ্যের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি আপত্তি দাখিলকারী ব্যক্তিদের বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে উধম সিং নগরের কিচ্ছা বিধানসভা কেন্দ্রের ঘটনা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, যেখানে মোট ৪,৮৫৭টি আপত্তি দাখিল হয়েছে এবং তার মধ্যে ৪,৮৫৫টি আবেদন একাই একজন ব্যক্তি দাখিল করেছেন।
SIR চলাকালীন ভোটার তালিকায় নাম যাচাই করা হচ্ছে। কোনও ভোটারের নাম অন্যত্রও নথিভুক্ত থাকা, স্থান পরিবর্তন বা অন্য কোনও কারণে তালিকায় থাকার যোগ্য না হওয়ার দাবি করা হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপত্তি দাখিল করা যায়। এরপর সংশ্লিষ্ট ভোটারকে নোটিস, শুনানি এবং নথিপত্রের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে কোনও নামের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল হওয়া মানেই সেই ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়া নয়।
কিচ্ছা কেন্দ্রের তথ্যই এই মামলায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, নাম বাদ দেওয়ার জন্য মোট ৪,৮৫৭টি আপত্তি দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে রাজেশ তিওয়ারি নামে এক ব্যক্তি ৪,৮৫৫টি আবেদন দাখিল করেছেন। তাঁকে বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাখিল করা আপত্তিগুলিতে যেসব ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে, তাঁদের সবাইকে মুসলিম ভোটার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে আবেদনে নাম আগে থেকেই অন্যত্র নথিভুক্ত থাকার বিষয়টিকে ভিত্তি করা হয়েছে।
একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হাজার হাজার আবেদন দাখিল হওয়ায় SIR প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক আপত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন ভোটারদের চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের নাম একাধিক স্থানের ভোটার তালিকায় থাকতে পারে। কোনও ভোটারের নাম সত্যিই দুই পৃথক স্থানে নথিভুক্ত থাকলে নির্বাচনী রেকর্ড সংশোধন করা নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার অংশ।
কিচ্ছা বিধানসভা কেন্দ্র উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর জেলায় অবস্থিত এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান উত্তরপ্রদেশের সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত। এই কারণে ভোটারদের স্থানান্তর এবং অন্য রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম থাকার বিষয়টিও যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে। বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক রাজেশ শুক্লার পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে যে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় এমন হাজার হাজার নাম পাওয়া গেছে, যেগুলি উত্তরপ্রদেশের বেরেলি, পিলিভীত এবং রামপুর জেলার ভোটার তালিকাতেও থাকার দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রভাবিত বলে উল্লেখ করা কিছু ভোটার এই দাবিগুলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিচ্ছার রহিস আহমেদের ঘটনাও সামনে এসেছে। তাঁর নামে স্থানান্তরের ভিত্তিতে আপত্তি দাখিল হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, তিনি সেখানেই জন্মেছেন এবং স্থানীয় স্তরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছেন। এই ধরনের ক্ষেত্রে নথিপত্র এবং নির্ধারিত শুনানি প্রক্রিয়ার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
কিচ্ছার পর উধম সিং নগরের গদরপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও বিপুল সংখ্যক আপত্তি দাখিল হয়েছে। এখানে মোট ১,৩৭০টি আপত্তির মধ্যে ৬৭০টি আবেদন একাই চঙ্কিত হুরিয়া নামে এক ব্যক্তি দাখিল করেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর প্রকাশ্য পরিচিতিতে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত একাধিক পদের উল্লেখ রয়েছে এবং তিনি নিজেও বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্ট হিসেবে কাজ করার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডুপ্লিকেট ভোটার এন্ট্রি চিহ্নিত করার ভিত্তিতে তিনি আবেদনগুলি দাখিল করেছেন।
গদরপুরের ক্ষেত্রেও ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক গুরুত্ব যুক্ত হয়েছে। সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্র হওয়ায় অন্য রাজ্য থেকে আসা-যাওয়া এবং ভোটার রেকর্ডে দ্বৈত এন্ট্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। SIR চলাকালীন দাখিল হওয়া আপত্তিগুলি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে প্রতিটি মামলায় নথিপত্র এবং ভোটারের প্রকৃত বসবাসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
তৃতীয় প্রধান ঘটনা খটিমা বিধানসভা কেন্দ্রের। এখানে মোট ৩৯৪টি আবেদন দাখিল হয়েছে, যার মধ্যে ৩৯২টি আবেদন একাই অমিত কুমার পাণ্ডে দাখিল করেছেন। উপলব্ধ রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁকে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি এবং বুথ লেভেল এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব ভোটারের নামের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল হয়েছে, তাঁদের সবাইকে মুসলিম ভোটার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খটিমা বিধানসভা কেন্দ্র রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ধামি এখানে কংগ্রেসের ভুবন চন্দ্র কাপরির কাছে পরাজিত হন। ফলে SIR চলাকালীন ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের বিষয়টিতে রাজনৈতিক দলগুলির নজর থাকা স্বাভাবিক।
নানকমত্তা বিধানসভা কেন্দ্রেও একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক আপত্তি দাখিলের ঘটনা সামনে এসেছে। এখানে মোট ৩৯১টি ফর্ম-৭ আবেদন দাখিল হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫৩টি আবেদন কিশোর জোশির পক্ষ থেকে দাখিল করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, জোশি নিজেকে বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর দাখিল করা অধিকাংশ আপত্তিতে ভোটার অন্যত্র চলে গিয়েছেন বা ‘শিফটেড’ হয়েছেন—এই বিষয়টিকে ভিত্তি করা হয়েছে।
এই তথ্যগুলি একত্রে দেখলে উত্তরাখণ্ডের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক আপত্তি দাখিলের প্রবণতা সামনে আসে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পাঁচটি কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি আপত্তি দাখিলকারী পাঁচজনকেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে মোট আপত্তির অত্যন্ত বড় অংশ একজন ব্যক্তি একাই দাখিল করেছেন।
এই প্রবণতা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্নও তৈরি করেছে। বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলতে পারে, একজন ব্যক্তি যদি হাজার হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার দাবি করেন, তাহলে প্রতিটি আবেদনের স্বাধীন ও পর্যাপ্ত যাচাই হচ্ছে কি না। অন্যদিকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় ডুপ্লিকেট বা ভুল এন্ট্রি থাকলে রাজনৈতিক অভিযোগের কারণে সেগুলি বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করা উচিত নয়।
আপত্তি দাখিল করা এবং ভোটারের নাম বাদ পড়া দুটি পৃথক প্রক্রিয়া। ফর্ম-৭ বা নির্ধারিত অন্য প্রক্রিয়ায় কোনও ভোটারের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকরা বিষয়টি যাচাই করেন। ভোটার নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ পান এবং নথিপত্রের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই শুধুমাত্র আবেদনের সংখ্যা দেখে সমসংখ্যক ভোটারের নাম নিশ্চিতভাবে বাদ পড়বে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
SIR প্রক্রিয়ায় দাবি ও আপত্তি জানানোর পর্যায় শেষ হয়েছে। উপলব্ধ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পর্যায় ১৩ আগস্ট শেষ হয়েছে। এরপর নোটিস এবং শুনানির প্রক্রিয়া চলবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে আগামী সময়ে বিপুল সংখ্যক আপত্তির যাচাই এবং নিষ্পত্তির ওপর নজর থাকবে।
এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভোটার তালিকা নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি মৌলিক অংশ। কোনও যোগ্য ভোটারের নাম ভুলভাবে বাদ পড়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তেমনই নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী তালিকায় থাকার যোগ্য নন এমন কোনও ব্যক্তির নাম তালিকায় থেকে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া নির্বাচনী আধিকারিকদের দায়িত্ব।
বিপুল সংখ্যক আবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিয়মে পরিবর্তনের কথাও সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের ভোটার তালিকা ম্যানুয়াল অনুযায়ী, বুথ লেভেল এজেন্টের জন্য এক দিনে ১০টির বেশি আবেদন দাখিলের সীমার বিধান ছিল। পরে কিছু পরিস্থিতিতে এই সীমা বাড়িয়ে প্রতিদিন ৫০টি আবেদন করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে পাঠানো একটি চিঠিতে এই সীমা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার তথ্য জানানো হয়।
উত্তরাখণ্ডে হাজার হাজার আবেদন দাখিলের আলোচনার মধ্যে এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনও ব্যক্তিকে এক দিনে বিপুল সংখ্যক আবেদন দাখিলের অনুমতি দেওয়া হলে হাজার হাজার আপত্তি দাখিল করা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হতে পারে। তবে প্রতিটি আপত্তির পেছনে থাকা প্রমাণের গুণমান এবং সত্যতা কীভাবে যাচাই করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কিচ্ছায় একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে ৪,৮৫৫টি আবেদন দাখিলের ঘটনা পুরো বিতর্কের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এই আবেদনের বড় অংশে ভোটাররা সত্যিই অন্যত্রও নিবন্ধিত পাওয়া গেলে ভোটার তালিকায় ডুপ্লিকেট এন্ট্রির বিষয়টি সামনে আসবে। অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক আপত্তি ভুল প্রমাণিত হলে SIR প্রক্রিয়ার নজরদারি এবং আপত্তি দাখিলকারীদের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
উত্তরাখণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৭ সালে হওয়ার কথা। এই সময়ে ভোটার তালিকার পুনর্বিবেচনা রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল পর্যায়ে হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় বড় কোনও পরিবর্তন রাজনৈতিক দলগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে কিচ্ছা, খটিমা, গদরপুর এবং নানকমত্তার মতো কেন্দ্রগুলিতে ভোটার কাঠামো এবং আগের নির্বাচনের ফলাফলের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলি এই প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখতে পারে।
SIR চলাকালীন মুসলিম ভোটারদের নামের বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক আপত্তি দাখিলের প্রবণতাও রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়াতে পারে। তবে কোনও ব্যক্তির ধর্মের ভিত্তিতে ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভিত্তি হতে পারে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রকৃত বসবাস, দ্বৈত এন্ট্রি, স্থানান্তর বা অন্য কোনও আইনি ভিত্তি যাচাই করা প্রয়োজন।
কোনও ভোটারের নাম ভুলভাবে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তাঁর দাবি ও আপত্তি জানানোর অধিকার রয়েছে। একইভাবে কোনও ভোটারের নাম দুই জায়গায় নথিভুক্ত থাকলে তা সংশোধনের প্রক্রিয়াও প্রয়োজন। ফলে SIR-এর চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে নির্বাচনী আধিকারিকরা দাখিল হওয়া দাবি ও আপত্তিগুলি কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করেন তার ওপর।
এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের সামনে আরও একটি চ্যালেঞ্জ হল বিপুল সংখ্যক আপত্তির সময়মতো যাচাই সম্পন্ন করা। হাজার হাজার আবেদনে প্রতিটি ভোটারের রেকর্ড, ঠিকানা, স্থানান্তর এবং অন্যান্য নথি যাচাই করা সহজ নয়। এর জন্য বুথ লেভেল অফিসার, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং অন্যান্য নির্বাচনী আধিকারিকদের স্তরে বিস্তারিত যাচাই করতে হবে।
আগামী দিনে নোটিস এবং শুনানির প্রক্রিয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। যেসব ভোটারের নামের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়ার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনও ভোটার প্রমাণ করতে পারলে যে তিনি সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের বৈধ ভোটার, তাহলে তাঁর নাম তালিকায় থাকতে পারে। অন্যদিকে দ্বৈত এন্ট্রি বা স্থানান্তরের দাবি সঠিক প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী রেকর্ডে পরিবর্তন করা যেতে পারে।
রাজনৈতিক দলগুলির কাছেও এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি ভোটার তালিকা পরিশুদ্ধ করা এবং কথিত ডুপ্লিকেট নাম বাদ দেওয়ার ভিত্তিতে তাদের প্রক্রিয়ার পক্ষে যুক্তি দিতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল বিপুল সংখ্যক আপত্তি নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি জানাতে পারে। এর ফলে উত্তরাখণ্ডে SIR আগামী দিনে একটি রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কিচ্ছার ৪,৮৫৫টি আবেদন। একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে এত বিপুল সংখ্যক আপত্তি দাখিলের তথ্য গোটা রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তবে এসব আপত্তির চূড়ান্ত ফল এখনও সামনে আসেনি। তাই কতজন ভোটারের নাম বাস্তবে বাদ যাবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
সামগ্রিকভাবে, উত্তরাখণ্ডে SIR চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আপত্তির পরিসংখ্যানে একটি বিশেষ প্রবণতা সামনে এসেছে। পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি আপত্তি দাখিলকারী ব্যক্তিদের বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিচ্ছায় মোট ৪,৮৫৭টি আপত্তির মধ্যে ৪,৮৫৫টি আবেদন এক ব্যক্তি দাখিল করেছেন। গদরপুর, খটিমা এবং নানকমত্তাতেও কয়েকজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক আবেদন দাখিলের তথ্য সামনে এসেছে। তবে এগুলি এখনও শুধুমাত্র আপত্তি এবং শুনানি ও নথিপত্র যাচাইয়ের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে কতগুলি নাম বাস্তবে বাদ পড়েছে বা তালিকায় বহাল রয়েছে।










