Virat Kohli: ১৮ অগাস্ট দিনটি বিরাট কোহলির ক্রিকেটজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক ১৮ বছর আগে, ২০০৮ সালের এই দিনেই ভারতের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার মাঠে নেমেছিলেন ১৯ বছরের তরুণ বিরাট। অভিষেক ম্যাচে ব্যাট হাতে সাফল্য না এলেও সেই দিন থেকেই শুরু হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটের এক দীর্ঘ ও স্মরণীয় অধ্যায়।
ডাম্বুলায় হয়েছিল আন্তর্জাতিক অভিষেক
২০০৮ সালের ১৮ অগাস্ট শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় ওয়ানডে ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন বিরাট কোহলি। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে নজর কেড়েছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ওপেন করতে নেমে ২২ বলে মাত্র ১২ রান করেন বিরাট। নুয়ান কুলাসেকারার বলে আউট হন তিনি।সেই ম্যাচে ভারত মাত্র ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায় এবং ৮ উইকেটে হারে। অভিষেকটা তাই মোটেও স্বপ্নের মতো ছিল না। কিন্তু সেই সাধারণ শুরু যে ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল কেরিয়ারে পরিণত হবে, তা তখন বোঝার উপায় ছিল না।
১৮ বছরে বদলে গেল ছবিটা
দিল্লির ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে উঠে আসা বিরাট নিজের আগ্রাসী মানসিকতা, ফিটনেস এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দ্রুত ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হয়ে ওঠেন। সময়ের সঙ্গে তিন ফরম্যাটেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।২০১০-এর দশক ছিল তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা সময়। ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০,৯৬০ রান করার পাশাপাশি ৬৯টি শতরান ও ৯৮টি অর্ধশতরান করেন তিনি। ২০১৮ সালে ৩৭টি ম্যাচে ২,৭৩৫ রান এবং ১১টি শতরান করে একই বছরে ICC-র বর্ষসেরা ক্রিকেটার, বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার ও বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের পুরস্কার জেতেন।
ওয়ানডেতে একের পর এক রেকর্ড
একদিনের ক্রিকেটে বিরাটের রেকর্ডের তালিকাও দীর্ঘ। মাত্র ২০৫টি ইনিংসে ১০ হাজার ওয়ানডে রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তিনি। কঠিন রান তাড়ায় তাঁর দক্ষতার জন্যও বারবার প্রশংসিত হয়েছেন প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটাররা।এমনকি ভারতের হয়ে ১৫ অগাস্ট এবং ২৬ জানুয়ারি—দুই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনেই আন্তর্জাতিক শতরান করার নজিরও রয়েছে তাঁর।
বিশ্বকাপ ও বড় মঞ্চে বিরাটের দাপট
চাপের ম্যাচে পারফর্ম করার জন্য বরাবরই আলাদা পরিচিতি রয়েছে বিরাটের। ICC-র সীমিত ওভারের প্রতিযোগিতাগুলিতেও তাঁর পরিসংখ্যান নজরকাড়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষে ছিলেন তিনি।বড় মঞ্চে তাঁর ধারাবাহিকতা এবং রান করার ক্ষমতাই তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ম্যাচ উইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
অধিনায়ক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান
ব্যাটার হিসেবে সাফল্যের পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও ভারতীয় ক্রিকেটে বিরাটের অবদান উল্লেখযোগ্য। টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় টেস্ট দল বিদেশের মাটিতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ জয় করেছে।
IPL-এও একই ধারাবাহিকতা
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি IPL-এও বিরাটের ব্যাটিং আধিপত্য দীর্ঘদিনের। একাধিক মরশুমে ৫০০-র বেশি রান করেছেন তিনি। নিয়মিতভাবে বড় রান করার ক্ষমতার কারণে IPL-এর ইতিহাসেও তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
১২ রান থেকে কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প
২০০৮ সালে ডাম্বুলায় মাত্র ১২ রানে শেষ হয়েছিল বিরাটের আন্তর্জাতিক অভিষেক ইনিংস। কিন্তু সেই ছোট্ট ইনিংসের পরের ১৮ বছরে বদলে গিয়েছে পুরো গল্প। রেকর্ড, শতরান, অধিনায়কত্ব, বড় ম্যাচের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে বিরাট কোহলির কেরিয়ার এখন ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
২০০৮ সালের ১৮ অগাস্ট শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল বিরাট কোহলির। ডাম্বুলায় মাত্র ১২ রানের সেই শুরু থেকেই ধীরে ধীরে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা হয়ে ওঠেন তিনি। ১৮ বছর পর তাঁর কেরিয়ারের পরিসংখ্যান, রেকর্ড ও অর্জনই বলে দেয় সেই যাত্রা কতটা অসাধারণ।









