রাত বাড়ছে, অথচ চোখে ঘুম নেই! কখনও ডান দিকে, কখনও বাঁ দিকে ফিরে কেটে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পরদিন সকালে উঠেই ক্লান্তি, মাথা ভার এবং কাজে মন বসতে না চাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘুমের এই গোলমালের নেপথ্যে যেমন স্ট্রেস, ক্যাফেইন, স্ক্রিন টাইম বা অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস থাকতে পারে, তেমনই শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টির ঘাটতিও ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস রাখা জরুরি।

কোন পুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের সমস্যা জড়িত?
ভিটামিন ডি
ভিটামিন ডি শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি। এর ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের গুণমান ও ঘুমের সমস্যার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা ঠিক আছে কি না, তা চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করা যেতে পারে।
কোন খাবারে পাবেন?
তৈলাক্ত মাছ, ডিমের কুসুম, ভিটামিন ডি-যুক্ত ফোর্টিফায়েড দুধ ও কিছু দুগ্ধজাত খাবার ভিটামিন ডি-এর উৎস হতে পারে। এছাড়া সূর্যালোকের সংস্পর্শেও শরীর নিজে ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে।
ভিটামিন বি১২
স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন বি১২ প্রয়োজনীয়। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে দুর্বলতা, ক্লান্তি, রক্তাল্পতা এবং স্নায়বিক নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ঘুমের ছন্দেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

কোন খাবারে মিলবে?
দুধ, দই, পনির, ডিম এবং মাছ-মাংসের মতো প্রাণিজ খাবার ভিটামিন বি১২-এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস। নিরামিষভোজীদের ক্ষেত্রে ফোর্টিফায়েড খাবার প্রয়োজন হতে পারে।
ম্যাগনেশিয়াম
ম্যাগনেশিয়াম শরীরের বহু গুরুত্বপূর্ণ জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা পালন করে। পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম না থাকলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং ঘুমের মানও প্রভাবিত হতে পারে।

কোন খাবারে পাবেন?
বাদাম, বীজ, ডাল, গোটা শস্য এবং বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি ম্যাগনেশিয়ামের ভালো উৎস।
শুধু খাবার খেলেই কি সঙ্গে সঙ্গে ঘুম আসবে?
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—কোনও একটি খাবার খাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ইনসোমনিয়া সেরে গিয়ে গভীর ঘুম চলে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ঘুমের সমস্যা সাধারণত একাধিক কারণের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও ঘুমের সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করাও জরুরি।

ঘুম ভালো রাখতে আর কী করবেন?
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। রাতে ঘুমের আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো, বিকেল-সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা-কফি এড়ানো এবং নিয়মিত শরীরচর্চা ঘুমের অভ্যাস উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। রাতে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাসও নিয়ন্ত্রণ করা ভালো।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুমের সমস্যা চলতে থাকলে, দিনের কাজকর্মে তার প্রভাব পড়লে বা অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, নাক ডাকা কিংবা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি নির্ণয় করা যেতে পারে। নিজের ইচ্ছায় উচ্চমাত্রার ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট শুরু না করাই ভালো।

রাতে বিছানায় যাওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ ঘুম না আসা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা সারারাত অস্বস্তিতে কাটানো—এগুলি অনিদ্রার সাধারণ লক্ষণ। মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপনসহ একাধিক কারণের পাশাপাশি শরীরে কিছু পুষ্টির ঘাটতিও ঘুমের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ এবং ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কোন খাবারে মিলবে এই পুষ্টিগুলি? রইল বিস্তারিত।







