Vithya Ramraj: পিটি ঊষার ৪২ বছরের রেকর্ড ভেঙে এশিয়াডে ব্রোঞ্জ, কে এই ভিথ্যা রামরাজ?

২০২৬ এশিয়ান গেমসে ৪০০ মিটার হার্ডলসে ব্রোঞ্জ জিতলেন ভিথ্যা রামরাজ। ৫৪.৭৫ সেকেন্ডে দৌড়ে ভাঙলেন পিটি ঊষার ৪২ বছরের জাতীয় রেকর্ড। জানুন তাঁর জীবন ও কেরিয়ারের গল্প।

ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে নতুন ইতিহাস লিখলেন ভিথ্যা রামরাজ। ২০২৬ এশিয়ান গেমসের মহিলাদের ৪০০ মিটার হার্ডলসে ৫৪.৭৫ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন তিনি। তাঁর এই সময় শুধু পদকই এনে দেয়নি, একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অক্ষত থাকা পিটি ঊষার জাতীয় রেকর্ডও পেরিয়ে গিয়েছে।

পিটি ঊষার রেকর্ড ভাঙলেন ভিথ্যা

১৯৮৪ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকসে ৪০০ মিটার হার্ডলসে ৫৫.৪২ সেকেন্ড সময় করেছিলেন পিটি ঊষা। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সেটিই ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে উল্লেখযোগ্য জাতীয় রেকর্ড হিসেবে ছিল।২০২৬ এশিয়াডের ফাইনালে ৫৪.৭৫ সেকেন্ড সময় করে সেই রেকর্ডের উন্নতি ঘটালেন ভিথ্যা। অর্থাৎ নিজের দৌড়ে তিনি পিটি ঊষার পুরনো সময়ের তুলনায় আরও দ্রুত ছুটেছেন।

২০২৩ সালেও রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন

পিটি ঊষার রেকর্ডের সঙ্গে ভিথ্যার পরিচয় অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের হ্যাংঝৌ এশিয়ান গেমসেও তিনি ৫৫.৪২ সেকেন্ড সময় করেছিলেন। সেই পারফরম্যান্সে জাতীয়রেকর্ড স্পর্শ করার পাশাপাশি ব্রোঞ্জ পদকও পেয়েছিলেন।তবে এবার নিজের আগের পারফরম্যান্সকে আরও উন্নত করে ৫৪.৭৫ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেছেন ভিথ্যা।

কঠিন লড়াইয়ের পর ব্রোঞ্জ

৪০০ মিটার হার্ডলসের ফাইনালে প্রতিযোগিতা ছিল বেশ টানটান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মারিয়াম কারীম ৫৪.৩১ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে গেমস রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন।কাজাখস্তানের অ্যাডেলিনা জেমস ৫৪.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে রুপো পান। ৫৪.৭৫ সেকেন্ডে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন ভারতের ভিথ্যা রামরাজ।

কোয়েম্বাটুরে জন্ম, শুরুটা ছিল কঠিন

ভিথ্যার জন্ম ১৯৯৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে। আর্থিক সমস্যার মধ্যে তাঁর শৈশব কেটেছে। পরিবারের পরিস্থিতির কারণে তাঁর মা ভিথ্যা এবং তাঁর যমজ বোন নিথ্যাকে ইরোডের একটি স্পোর্টস হোস্টেলে ভর্তি করান।সেখান থেকেই দুই বোনের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের সঙ্গে নিয়মিতভাবে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হয়।

অসুস্থতা ও চোটও থামাতে পারেনি

পরবর্তী সময়ে পাটিয়ালার জাতীয় ক্যাম্পে যোগ দিলেও ভিথ্যার কেরিয়ার সবসময় মসৃণ ছিল না। নতুন পরিবেশে ভাষাগত সমস্যার পাশাপাশি অসুস্থতার ধাক্কাও সামলাতে হয়েছে তাঁকে।অলিম্পিক ট্রায়ালের আগে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারও তাঁর প্রস্তুতিতে বাধা তৈরি করেছিল। পরিবারের তরফে চাকরিতে যোগ দেওয়ার চাপ থাকলেও অ্যাথলেট হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি তিনি।

২০২২ সালে এল বড় পরিবর্তন

২০২২ সালে চেন্নাইয়ে গিয়ে কোচ নেহপাল সিং রাঠোরের অধীনে প্রশিক্ষণ শুরু করেন ভিথ্যা। তাঁর কেরিয়ারের ক্ষেত্রে এই পর্বটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শুধু ফ্ল্যাট স্প্রিন্টে না থেকে কোচের পরামর্শে ৪০০ মিটার হার্ডলসে মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্তও তাঁর পারফরম্যান্সে নতুন মাত্রা যোগ করে।

যমজ বোনের সঙ্গে এশিয়াডে নজির

ভিথ্যা ও তাঁর যমজ বোন নিথ্যার ক্রীড়াজীবনের গল্পও বিশেষ। হ্যাংঝৌ এশিয়ান গেমসে দুই বোন একসঙ্গে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে নজির গড়েছিলেন।এরপর ভিথ্যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের পারফরম্যান্স আরও এগিয়ে নিয়ে যান। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক এবং ২০২৫ সালের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও ভারতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।

২০২৬ এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ৪০০ মিটার হার্ডলসে ৫৪.৭৫ সেকেন্ড সময় করে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ভারতের ভিথ্যা রামরাজ। এই পারফরম্যান্সের সঙ্গেই ভেঙে গেল পিটি ঊষার ১৯৮৪ সালের ৫৫.৪২ সেকেন্ডের জাতীয় রেকর্ড। কঠিন শৈশব, অসুস্থতা ও চোটের ধাক্কা পেরিয়ে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তামিলনাড়ুর এই অ্যাথলিট।

Leave a comment