নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন, ৯ অক্টোবর ফল

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে ৬ অক্টোবর ২০২৬ উপনির্বাচন হবে। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী নন এবং ৯ অক্টোবর ভোটের ফল ঘোষণা হবে।

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে ৬ অক্টোবর ২০২৬ উপনির্বাচন হবে। ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা করা হবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর নন্দীগ্রাম আসনটি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছেড়ে দেওয়ায় এবং রেজিনগর আসনটি হুমায়ুন কবীর ছেড়ে দেওয়ায় এই দুই আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে।

প্রায় ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি উপনির্বাচন হচ্ছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী বা বিধায়ক হিসেবে নেই এবং নিজেও প্রার্থী নন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজের আসনে পরাজিত হন।

নন্দীগ্রামের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক যাত্রার দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৭ সালে জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতায় আন্দোলন তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজ্য রাজনীতিতে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে দলটি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। এর পর নন্দীগ্রাম তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন।

ভবানীপুরে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। শুভেন্দু অধিকারী ৭৩,৯১৭ ভোট এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৮,৮১২ ভোট পান।

এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছান, যখন তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও নন এবং বিধানসভার সদস্যও নন।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করেছিল। পরে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা দেয়।

নন্দীগ্রামে বিজেপি হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান এবং বাম শিবিরের প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরও আলাদা প্রার্থী দিয়েছে।

মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা আসনেও ৬ অক্টোবর ভোট হবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা—দুই আসনে জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন। উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রেজিনগরে বিজেপি শাখারাভ সরকারকে প্রার্থী করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির রাবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী সাফিউজ্জামান শেখ। কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি এবং সিপিআই(এম)-এর প্রার্থী সৈয়দ আসাদ আলি। এছাড়া এজেইউপি-র প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ রয়েছেন।

ফলে রেজিনগরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে রয়েছেন।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে ৬ অক্টোবর ২০২৬ ভোটগ্রহণ হবে। ৯ অক্টোবর ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ১১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।

Leave a comment