রাজনীতির ময়দানে সাফল্যের পিছনে অনেক সময় থাকে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। বাঁকুড়ার সোনামুখীর বিধায়ক দিবাকর ঘরামির জীবনও তেমনই এক লড়াইয়ের গল্প। কৃষক পরিবারের সন্তান থেকে জনপ্রতিনিধি, আর সেখান থেকে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা— এই যাত্রাপথে মানুষের আস্থা ও জনসংযোগই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। এবার সেই রাজনৈতিক পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে রাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি।
সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এক রাজনৈতিক মুখ
বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীর বাসিন্দা দিবাকর ঘরামি ছোটবেলা থেকেই সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের সঙ্গে পরিচিত। কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠার ফলে গ্রামীণ সমস্যার বাস্তব চিত্র তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। পরবর্তীতে সেই অভিজ্ঞতাকেই রাজনৈতিক জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন।
২০২৬-এর জয়ে মিলল বড় পুরস্কার
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সোনামুখী কেন্দ্র থেকে ফের বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন দিবাকর ঘরামি। নির্বাচনের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা ছিল, মন্ত্রিসভায় তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনাই বাস্তবে পরিণত হল।
বন ও পরিবেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব
দিবাকর ঘরামির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বন ও পরিবেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, বন সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষার মতো বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জঙ্গলমহল অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে এই দফতরে তাঁর ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।সবুজায়ন কর্মসূচি, বনভূমি রক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।
সমবায় দফতরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
বন ও পরিবেশের পাশাপাশি সমবায় দফতরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পাচ্ছেন দিবাকর ঘরামি। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি এবং গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমবায় ব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে গ্রামের অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে সমবায় ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় তিনি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সোনামুখীতে জনসংযোগই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি
বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই এলাকায় রাস্তা, পানীয় জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন দিবাকর ঘরামি। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তিনি একাধিক জনস্বার্থমূলক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন।এই কারণেই তাঁর মন্ত্রী হওয়ার খবর সোনামুখী এবং গোটা বাঁকুড়া জেলায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
জঙ্গলমহলের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী
দিবাকর ঘরামির মন্ত্রীত্বকে অনেকেই জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত এই নেতার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি ওই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাঁকুড়ার সোনামুখীর সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া দিবাকর ঘরামি এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর তাঁকে বন ও পরিবেশ দফতর এবং সমবায় দফতরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জঙ্গলমহলের এই জনপ্রিয় নেতার মন্ত্রীত্ব ঘিরে এলাকায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।







