দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় পৌঁছে গেল মৌসুমি বায়ু। ১২ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলায় বর্ষার প্রবেশের ঘোষণা করেছে আবহাওয়া দফতর। তবে বর্ষা এলেও দক্ষিণবঙ্গে আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বরং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি এবং ভ্যাপসা গরমই আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য হতে চলেছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে।
বাংলায় বর্ষার প্রবেশ, কিন্তু দুর্বল মৌসুমি পরিস্থিতি
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ সম্পূর্ণ হয়েছে। শুধুমাত্র পুরুলিয়ার কিছু অংশে এখনও বর্ষার বিস্তার পুরোপুরি হয়নি। আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি মরশুমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় আবহাওয়ার প্রভাবের কারণে মৌসুমি বায়ুর শক্তি কিছুটা দুর্বল রয়েছে। ফলে বর্ষার আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটলেও দক্ষিণবঙ্গে এখনও সেই টানা বৃষ্টির পরিবেশ তৈরি হয়নি।
দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, ভারী বৃষ্টি নয়
আগামী সাতদিন দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে প্রায় প্রতিদিনই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। অনেক জায়গায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার এবং কোথাও কোথাও ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোন কোন জেলায় বেশি প্রভাব ফেলবে ঝড়-বৃষ্টি?
শুক্রবার বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। এছাড়া আগামী কয়েকদিন বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকবে। স্থানীয়ভাবে কোথাও মাঝারি থেকে জোরালো বৃষ্টিপাত হতে পারে।
উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
উত্তরবঙ্গে বর্ষার প্রভাব অনেক বেশি সক্রিয় হতে চলেছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে আগামী কয়েকদিন বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আগামী সপ্তাহের শুরুতে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার কিছু এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি নিয়েও নজর রাখছে প্রশাসন।
বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা
দার্জিলিং থেকে মালদহ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার সক্রিয়তার ফলে উত্তরবঙ্গে মনোরম আবহাওয়া বজায় থাকলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকবে। তাই খোলা মাঠ, জলাশয়ের ধারে বা উঁচু জায়গায় অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতায় বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি নয়
কলকাতায় আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হবে না। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় অস্বস্তিকর গরম অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। ফলে বৃষ্টি হলেও স্বস্তি মিলবে সাময়িকভাবেই।
অবশেষে কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। তবে বর্ষার আগমনের পরও দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত কম। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।










