সকাল বা দুপুরে আকাশ পরিষ্কার দেখে কি মনে হচ্ছে দুর্যোগ কেটে গিয়েছে? আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, এখনই পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নয়। রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ফের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও হলুদ, কোথাও কমলা আবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিংয়ের কিছু এলাকায় লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। ফলে বাইরে বেরোনোর আগে নিজের জেলার আবহাওয়ার আপডেট জেনে নেওয়াই ভালো।
কলকাতা-সহ তিন জেলায় হলুদ সতর্কতা
দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী, আগামী এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমানে কমলা সতর্কতা
বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানেও রয়েছে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা। এই দুই জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় থাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গে আরও বড় চিন্তা
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি যথেষ্ট নজরকাড়া। দার্জিলিংয়ের কিছু অংশে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে ২০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতিভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা রয়েছে। কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে জারি করা হয়েছে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা।
পাহাড়ে ধস, উত্তরবঙ্গে ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আশঙ্কা
অবিরাম বা অতিভারী বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়ছে। দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ে ধসের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা হড়পা বানের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাই বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। তালিকায় রয়েছে—
পুরুলিয়া
বাঁকুড়া
পশ্চিম বর্ধমান
বীরভূম
পূর্ব মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুর
ঝাড়গ্রাম
এই জেলাগুলির কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা আর থাকছে না।
দুর্যোগ কি তাহলে পুরোপুরি কাটল?
গভীর নিম্নচাপের প্রভাব দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা অনেক জায়গায় কমতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে রাজ্যজুড়ে সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া সম্পূর্ণ শুকনো হয়ে যাবে।স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে অল্প সময়ের মধ্যে ঝড়, বাজ এবং বৃষ্টি হতে পারে। তাই আকাশ পরিষ্কার দেখালেও সতর্ক থাকা জরুরি।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কমলেও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় এখনও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার কলকাতা, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমানে রয়েছে কমলা সতর্কতা। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিংয়ের কিছু অংশে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে রয়েছে কমলা সতর্কতা। পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং উত্তরবঙ্গে ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।












