ইন্টারনেটের জন্য ভাল ব্রডব্যান্ড কানেকশন নিয়েছেন, অথচ মোবাইল বা ল্যাপটপে WiFi খুললেই ধীর গতি? কখনও ভিডিও বাফারিং, কখনও অনলাইন মিটিংয়ে আটকে যাওয়া, আবার কখনও গেম খেলতে গিয়ে ল্যাগ—এই সমস্যার জন্য সবসময় ব্রডব্যান্ড সংস্থাকে দায়ী করা যায় না। অনেক সময় আপনার ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে WiFi স্লো হওয়ার কারণ। বিশেষ করে কোথায় রাউটার রাখা হয়েছে, সেটিই বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
রাউটার কোথায় রাখবেন?
WiFi-এর সিগন্যাল ভাল পাওয়ার ক্ষেত্রে রাউটারের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের কোনও এক কোণে, আলমারির ভিতরে কিংবা বড় কোনও আসবাবের আড়ালে রাউটার রাখলে সিগন্যাল ছড়িয়ে পড়তে বাধা পেতে পারে।তাই সম্ভব হলে ঘরের তুলনামূলক মাঝামাঝি জায়গায় এবং খোলা পরিবেশে রাউটার রাখুন। মেঝেতে না রেখে কিছুটা উঁচু জায়গায় রাখলে অনেক ক্ষেত্রে সিগন্যালের কভারেজও ভাল পাওয়া যায়।
একসঙ্গে বেশি ডিভাইস মানেই কি কম স্পিড?
একই WiFi নেটওয়ার্কে একসঙ্গে অনেকগুলি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, স্মার্ট টিভি বা অন্য স্মার্ট ডিভাইস যুক্ত থাকলে উপলব্ধ ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে যায়। ফলে প্রত্যেক ডিভাইসে ইন্টারনেটের গতি কমতে পারে।এর সঙ্গে যদি কেউ বড় ফাইল ডাউনলোড করেন কিংবা 4K ভিডিও স্ট্রিমিং করেন, তাহলে অন্য ব্যবহারকারীরাও ধীরগতির সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই প্রয়োজন নেই এমন ডিভাইস WiFi থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখাই ভাল।
রাউটার রিস্টার্ট করাও জরুরি
দীর্ঘদিন রাউটার বন্ধ না করলে বা রিস্টার্ট না করলে কখনও কখনও পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া পুরোনো ফার্মওয়্যার এবং আশপাশের একাধিক WiFi নেটওয়ার্কের সিগন্যালের সঙ্গে ইন্টারফেরেন্স হলেও স্পিড কমে যেতে পারে।
WiFi-এর পাসওয়ার্ডও হতে পারে সমস্যার কারণ
আপনার অজান্তে অন্য কেউ WiFi ব্যবহার করছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা দরকার। দুর্বল পাসওয়ার্ড থাকলে অপরিচিত কেউ নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়তে পারেন। এতে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ে।শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং সম্ভব হলে WPA2 বা WPA3 নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখুন। রাউটারের অ্যাডমিন প্যানেলে গিয়ে মাঝেমধ্যে সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা পরীক্ষা করুন। অচেনা ডিভাইস দেখলে সেটিকে ব্লক করে প্রয়োজনে WiFi-এর পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন।
সব ঠিক থাকার পরেও স্পিড কম?
রাউটারের অবস্থান, সংযুক্ত ডিভাইস এবং নেটওয়ার্ক সেটিংস ঠিক করার পরও যদি সমস্যা থেকে যায়, তাহলে ব্রডব্যান্ড লাইনে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছে জানতে পারেন।প্রয়োজনে দ্রুতগতির প্ল্যানে আপগ্রেড করার পাশাপাশি ডুয়াল-ব্যান্ড বা WiFi 6 সমর্থিত নতুন রাউটার ব্যবহার করার কথাও ভাবা যেতে পারে। তবে রাউটার বদলানোর আগে আপনার বর্তমান ব্রডব্যান্ড প্ল্যান এবং লাইনের প্রকৃত স্পিড পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।
দ্রুত WiFi পাওয়ার সহজ চেকলিস্ট
রাউটার ঘরের মাঝামাঝি ও খোলা জায়গায় রাখুন।
মেঝের বদলে কিছুটা উঁচু জায়গায় রাখুন।
অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস WiFi থেকে সরিয়ে দিন।
নিয়মিত রাউটার রিস্টার্ট ও ফার্মওয়্যার আপডেট করুন।
আশপাশের WiFi নেটওয়ার্কের ইন্টারফেরেন্স কমানোর চেষ্টা করুন।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং WPA2/WPA3 ব্যবহার করুন।
অপরিচিত ডিভাইস নিয়মিত চেক করুন।
সমস্যা না মিটলে ব্রডব্যান্ড সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
ভাল ব্রডব্যান্ড সংযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় WiFi-এর গতি কমে যায়। রাউটারের ভুল অবস্থান, একসঙ্গে অতিরিক্ত ডিভাইসের সংযোগ, নেটওয়ার্ক ইন্টারফেরেন্স, পুরোনো ফার্মওয়্যার এবং দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এমনটা হতে পারে। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই WiFi-এর গতি ও স্থিতিশীলতা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।









