বিয়ের মরশুমের মাঝেই বাজারে বড় চমক—সোনার দামে হঠাৎ ধস। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে বিনিয়োগকারীদের আচরণ বদলেছে, আর তার প্রভাব পড়েছে সরাসরি সোনার দামে। এখন সবার একটাই প্রশ্ন—এই পতন কি আরও বাড়বে?
যুদ্ধ পরিস্থিতি, কিন্তু সোনার দাম কমছে কেন?
সাধারণত বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়লে সোনার দাম বাড়ে। কিন্তু এবার ঘটছে উল্টো। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পরও সোনার দাম কমেছে। এর মূল কারণ হল মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার বদলে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন।
ডলারের জোরেই সোনার বাজারে ধাক্কা
ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম চাপের মুখে পড়েছে। যেহেতু সোনা ডলারে ট্রেড হয়, তাই ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রায় সোনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে চাহিদা কমে যায়।
একদিনেই হাজার হাজার টাকা পতন
সাম্প্রতিক বাজারে দেখা গেছে, এক সোভরেন সোনার দাম একদিনে প্রায় ₹৭,৬০০ পর্যন্ত কমে যায়। প্রতি গ্রাম সোনার দাম নেমে আসে ₹১২,৬৭০-এর কাছাকাছি। যদিও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তবুও বাজারে অস্থিরতা স্পষ্ট।
মার্চে বড় পতন—সোনা ১৫%, রুপো ২৫% নিচে
মার্চ মাসে এখনও পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ১৫% এবং রুপোর দাম ২৫% পর্যন্ত কমেছে। এই প্রবণতা দেখেই অনেকেই মনে করছেন, দাম আরও নামতে পারে।
সুদের হার ও বন্ড মার্কেটের প্রভাব
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার কমায়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখনও বন্ডে বেশি আগ্রহী। যদি সুদের হার কমত, তাহলে সোনায় বিনিয়োগ বাড়তে পারত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনার চাহিদা কিছুটা কমে গেছে।
₹৮০,০০০-এ নামবে সোনা? বাস্তব ছবি কী
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম ₹১ লক্ষের নিচে নামতে পারে। তবে ₹৮০,০০০-এ নামার সম্ভাবনা খুবই কম, যদি না বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধস নামে বা ডলার আরও অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী হয়।
ক্রেতাদের জন্য কি এখনই সেরা সময়?
যারা গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ হতে পারে। দাম ইতিমধ্যেই অনেকটাই কমেছে, এবং ভবিষ্যতে আবার বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, শক্তিশালী ডলার ও উচ্চ সুদের হারের জেরে সোনার দামে বড় পতন। মার্চেই প্রায় ১৫% কমেছে দাম। প্রশ্ন উঠছে—১০ গ্রাম সোনা কি সত্যিই ₹৮০,০০০-এ নামতে পারে? নাকি এটি সাময়িক পতন?













