বাংলার মাটিতে জন্ম, আর বিশ্বমঞ্চে সোনালি সাফল্য। নদিয়ার নবদ্বীপের দশম শ্রেণির ছাত্র আয়ুষ ভৌমিক এমন এক নজির গড়েছেন, যা শুধু তাঁর পরিবার বা বিদ্যালয়ের গর্ব নয়, গোটা রাজ্যের জন্যই এক বড় সম্মানের মুহূর্ত। প্রথম বিশ্ব যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে দুটি বিভাগে সোনার পদক জিতে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের শক্তি ও প্রতিভার পরিচয় তুলে ধরেছেন।
কঠিন নির্বাচনী পর্ব পেরিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সুযোগ
বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর পথ মোটেই সহজ ছিল না। অল বেঙ্গল যোগাসন স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং যোগাসন ভারতের উদ্যোগে হরিয়ানার সোনিপতে আয়োজিত নির্বাচনী ট্রায়ালে অংশ নিতে হয়েছিল আয়ুষকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিযোগীদের মধ্যে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে ভারতীয় দলে জায়গা করে নেন তিনি। সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় তাঁর বিশ্বজয়ের স্বপ্নপূরণের যাত্রা।
বিশ্বের তাবড় প্রতিযোগীদের হারিয়ে সোনার হাসি
৪ থেকে ৮ জুন গুজরাটের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বিশ্ব যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় রাশিয়া, জাপান, উজবেকিস্তান, আর্জেন্টিনা, সিঙ্গাপুর, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও জাম্বিয়াসহ একাধিক দেশের প্রতিযোগীরা। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও অসাধারণ দক্ষতা, শারীরিক নমনীয়তা এবং নিখুঁত পরিবেশনার মাধ্যমে বিচারকদের মন জয় করেন আয়ুষ। ফলস্বরূপ দলগত আর্টিস্টিক এবং আর্টিস্টিক পেয়ার—দুই বিভাগেই সোনার পদক অর্জন করেন তিনি।
ভারতের পদক জয়ে বড় ভূমিকা
এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করেছে। মোট ১১৪টি পদক জিতে ভারত শীর্ষস্থান দখল করে। এর মধ্যে রয়েছে ১০২টি সোনা, ৯টি রুপো এবং ৩টি ব্রোঞ্জ। দেশের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন আয়ুষ ভৌমিক। তাঁর জোড়া সোনা ভারতের পদক তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
বাংলার প্রতিভারা ছড়ালেন আলো
ওয়ার্ল্ড যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে পশ্চিমবঙ্গ থেকেও একাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। মোট ১৩ জন বাংলার খেলোয়াড় বিভিন্ন বিভাগে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই পদক জিতলেও আয়ুষের জোড়া সোনা বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এই সাফল্য প্রমাণ করেছে, বাংলার ক্রীড়া প্রতিভারা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।
পরিবারের আনন্দ, স্কুলে উৎসবের আবহ
ছেলের এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে ভৌমিক পরিবার। বাবা ভোলানাথ ভৌমিক এবং মা পিঙ্কি ভৌমিক জানিয়েছেন, আয়ুষের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলই এই সাফল্য। অন্যদিকে নবদ্বীপ হিন্দু স্কুলেও খুশির আবহ। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জগন্নাথ গুই বলেন, আয়ুষের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত গৌরব নয়, বিদ্যালয়ের ইতিহাসেও এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার নতুন মুখ
বর্তমান সময়ে যখন অনেক তরুণ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, তখন আয়ুষের সাফল্যের গল্প নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে বিশ্বমঞ্চেও সাফল্য অর্জন সম্ভব—এই বার্তাই তুলে ধরেছে তাঁর অর্জন।
গুজরাটে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে অংশ নিয়ে জোড়া সোনার পদক জিতলেন নদিয়ার নবদ্বীপের ছাত্র আয়ুষ ভৌমিক। দলগত আর্টিস্টিক এবং আর্টিস্টিক পেয়ার বিভাগে সেরা হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি। তাঁর এই কৃতিত্বে উচ্ছ্বসিত পরিবার, স্কুল এবং গোটা জেলা।








