বারাণসীর BHU-তে জাতীয় অধিবেশনের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

বারাণসীর বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা ভবনে জাতীয় অধিবেশনের উদ্বোধন করেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। অনুষ্ঠানে শিক্ষা, গবেষণা, ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরা, উদ্ভাবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বারাণসীর BHU-তে জাতীয় অধিবেশনের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ
Photo Credit / Attribution: Google

বারাণসীর বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (BHU)-এর স্বাধীনতা ভবনে সোমবার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জাতীয় অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। মুখ্যমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয় এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে BHU-এর উপাচার্য এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। উপাচার্য তাঁকে অঙ্গবস্ত্র পরিয়ে সম্মানিত করেন এবং স্মারকচিহ্ন প্রদান করেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে জাতীয় অধিবেশনের সূচনা করেন।

স্বাধীনতা ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং একাধিক বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষা, গবেষণা এবং ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি কেবল ডিগ্রি প্রদানের কেন্দ্র নয়, বরং জাতি গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ভারতের প্রাচীন জ্ঞান-পরম্পরাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান, যাতে তরুণরা নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী BHU-এর সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উত্তর প্রদেশের নয়, সমগ্র দেশের গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, এখান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন এবং উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

অনুষ্ঠান চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও গবেষণামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। অনুষ্ঠানের সময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যেও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।

জাতীয় অধিবেশনের উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সংলাপ করেন এবং দেশের উন্নয়নে নিজেদের ভূমিকা পালনের জন্য তাঁদের উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, যুবশক্তিই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং শিক্ষার মাধ্যমে দেশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকচিহ্ন প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। এরপর নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী তিনি অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। BHU-তে আয়োজিত এই জাতীয় অধিবেশনকে শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Leave a comment