এক বছর কেটে গিয়েছে, কিন্তু প্রিয় মানুষটির উপস্থিতি এখনও অনুভব করেন গরিমা গর্গ। অসমিয়া সঙ্গীতের জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গর্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্বামীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এমনই কথা বলেছেন তাঁর স্ত্রী। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় জুবিনের মৃত্যু হয়। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অসমের কামারকুচির জুবিন এলাকায় তিন দিন ধরে ‘জুবিন দিবস’ পালন করা হচ্ছে।
‘আজও সর্বত্র জুবিনকে দেখি’, বললেন গরিমা
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে গরিমা জানিয়েছেন, জুবিনকে এখনও তাঁর চারপাশে অনুভব করেন তিনি। কারণ, শিল্পীর ভক্তরা জাতি, ধর্ম কিংবা পরিচয়ের বিভেদ ভুলে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে একত্রিত হয়েছেন।গরিমার বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের এই ভালোবাসার মধ্যেই জুবিন এখনও জীবন্ত। তাঁর মতে, অসমকে নিয়ে জুবিনের যে স্বপ্ন ছিল, মানুষের এই মিলন যেন তারই প্রতিফলন।
শোকের বদলে ‘জুবিন দিবস’ উদযাপন
গরিমার কথায়, জুবিনের মৃত্যুবার্ষিকীকে অসমের মানুষ শুধুমাত্র শোকের দিন হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁর স্মৃতি, চিন্তাভাবনা ও সৃষ্টিশীলতাকে সামনে রেখে ‘জুবিন দিবস’ পালন করছেন অনুরাগীরা।জুবিনের ইতিবাচক ভাবনা এবং মানুষের মধ্যে ঐক্যের বার্তা তাঁর ভক্তরা নিজেদের জীবনে ধরে রাখছেন বলেও জানিয়েছেন গরিমা।
কঠিন পরিস্থিতিকেও সৃষ্টিশীলতায় বদলাতেন জুবিন
স্বামীর জীবনের নানা সংগ্রামের কথাও স্মরণ করেছেন গরিমা। তাঁর দাবি, কঠিন পরিস্থিতি, মানসিক চাপ কিংবা দুঃসময়কে জুবিন নিজের সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে অন্যভাবে প্রকাশ করতে পারতেন।জীবনে একাধিক বাধা এলেও সেগুলিকে নিজের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে না দিয়ে ইতিবাচক শক্তিতে পরিণত করার চেষ্টা করতেন বলেই জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
‘জুবিনের শক্তি এখনও তাঁর ভক্তদের মধ্যে’
গরিমার কথায়, জুবিন বিশ্বাস করতেন শক্তির কোনও শেষ নেই। একজন মানুষের শক্তি অন্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁর স্ত্রী মনে করেন, জুবিনের শক্তি আজও তাঁর অগণিত ভক্ত ও অনুরাগীর মধ্যে বেঁচে রয়েছে।গান, সৃষ্টিশীলতা এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের মধ্য দিয়েই জুবিনের স্মৃতি আগামী দিনেও বেঁচে থাকবে বলে জানিয়েছেন গরিমা।
জুবিনের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত, ন্যায়ের অপেক্ষায় পরিবার
জুবিন গর্গের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত ছিল কি না, সেই সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের তদন্ত হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে স্বামীর মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা জানতে চান গরিমা। তাঁর বক্তব্য, আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলায় পরিবার এখনও সেই দিনের ঘটনাবলি সম্পর্কে সম্পূর্ণ উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।তিনি জানিয়েছেন, পরিবার ন্যায়বিচার চায় এবং ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে ঠিক কী ঘটেছিল, তার উত্তর জানতে আগ্রহী।
প্রয়াত অসমিয়া গায়ক জুবিন গর্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ১৯ সেপ্টেম্বর। ২০২৫ সালের এই দিনেই সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় ৫২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুবার্ষিকীতে জুবিনের স্ত্রী গরিমা গর্গ জানিয়েছেন, এখনও তিনি তাঁর স্বামীকে সর্বত্র অনুভব করেন। একই সঙ্গে জুবিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে চলা আইনি প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে ন্যায়বিচারের অপেক্ষার কথাও জানিয়েছেন তিনি।







