শরীরে পটাশিয়াম কমলেই বিপদ! স্ট্রোক-হার্টের ঝুঁকি বাড়ে, এই ৯ সস্তার খাবারে মিলবে ভরপুর পটাশিয়াম

শরীরে পটাশিয়াম কমলে বাড়ে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি। জানুন পটাশিয়ামের ঘাটতির লক্ষণ এবং সহজলভ্য ৯টি পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা।

পেশি, স্নায়ু এবং হৃদযন্ত্রকে সচল রাখতে শরীরে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট শরীরের কোষে পুষ্টি পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কিন্তু শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে দেখা দিতে পারে গুরুতর সমস্যা— এমনকি স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পটাশিয়াম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

পটাশিয়াম মূলত হৃদপেশির সংকোচন ও প্রসারণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শরীরে এর মাত্রা স্বাভাবিক থাকলে হৃদস্পন্দন থাকে নিয়মিত ও ছন্দোবদ্ধ। এছাড়া এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, স্নায়ুর সংকেত আদানপ্রদান স্বাভাবিক রাখে এবং পেশির কার্যক্ষমতা বজায় রাখে। শরীর নিজে থেকে পটাশিয়াম তৈরি করতে পারে না, তাই খাবারের মাধ্যমেই এই খনিজের জোগান দিতে হয়।

কমে গেলে দেখা দেয় যে সব লক্ষণ

চিকিৎসকদের মতে, শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে প্রথমে ক্লান্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পায়ের পেশিতে টান ধরার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে হৃদস্পন্দনের ছন্দ বদলে যেতে পারে, পেশিতে পক্ষাঘাতের মতো সমস্যাও হতে পারে। রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা ৩.৫ mmol-এর নিচে নেমে গেলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে হাইপোক্যালেমিয়া বলা হয়।

এই ৯ খাবারে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম

তরমুজ:

দুই টুকরো বা প্রায় ৫৭০ গ্রাম তরমুজে দৈনিক পটাশিয়াম চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ পাওয়া যায়। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতেও এটি দারুণ কার্যকর।

ডাবের জল:

ডিহাইড্রেশন রোধে ডাবের জল অত্যন্ত উপকারী। এক কাপ ডাবের জলে দৈনিক পটাশিয়াম চাহিদার প্রায় ১৩ শতাংশ পাওয়া যায়।

বিনস:

বিনস পটাশিয়ামের অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস। এক কাপ বিনসে দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় ২১ শতাংশ পটাশিয়াম থাকতে পারে।

মিষ্টি আলু:

এক কাপ মিষ্টি আলুতে প্রায় ১৬ শতাংশ পটাশিয়াম পাওয়া যায়। এতে ফাইবারও প্রচুর থাকে।

কলা:

মাঝারি আকারের একটি কলায় প্রায় ৪০০–৪৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।

অ্যাভোকাডো:

একটি মাঝারি আকারের অ্যাভোকাডোতে প্রায় ৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকতে পারে, যা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

কমলালেবু:

একটি কমলালেবুতে প্রায় ২৩০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি এতে ভিটামিন সি-ও প্রচুর থাকে।

আলু:

একটি মাঝারি সেদ্ধ আলুতে দৈনিক পটাশিয়াম চাহিদার প্রায় ১২ শতাংশ পূরণ হতে পারে।

পালং শাক:

পালং শাকে পটাশিয়ামের পাশাপাশি ভিটামিন এ, ভিটামিন কে এবং ম্যাগনেশিয়ামও রয়েছে।

শরীর সুস্থ রাখতে পটাশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। এর ঘাটতি হলে পেশি, স্নায়ু এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কিছু সহজলভ্য খাবার নিয়মিত খেলে পটাশিয়ামের ঘাটতি সহজেই পূরণ করা সম্ভব।

Leave a comment