ইন্টারনেট প্রযুক্তির পরবর্তী বড় ধাপ হতে চলেছে ৬জি। বর্তমানে অনেক দেশে ৫জি পরিষেবা চালু হলেও ভবিষ্যতের দ্রুত ও স্মার্ট নেটওয়ার্ক তৈরির লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই গবেষণা শুরু হয়েছে। স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত Mobile World Congress 2026-এ এই বিষয়ে বড় ঘোষণা করেছে কোয়ালকম।
২০২৯ সালের মধ্যে ৬জি চালুর লক্ষ্য
MWC ২০২৬-এ কোয়ালকমের সিইও Cristiano Amon জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৬জি বাণিজ্যিকভাবে চালুর লক্ষ্য নিয়ে একটি কনসোর্টিয়াম তৈরি করা হয়েছে।এই উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থা এবং টেলিকম কোম্পানি একসঙ্গে কাজ করবে। ভারতের জিও এবং এয়ারটেলও এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, ফলে বিশ্বে ৬জি চালু হলে একই সময়ে ভারতেও এই পরিষেবা পৌঁছাতে পারে।
AI-নেটিভ ‘স্মার্ট’ নেটওয়ার্ক হবে ৬জি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬জি শুধু দ্রুত ইন্টারনেটই দেবে না, বরং এটি হবে সম্পূর্ণ AI-চালিত নেটওয়ার্ক।এই প্রযুক্তিতে নেটওয়ার্ক নিজেই সমস্যার সমাধান করতে পারবে। অর্থাৎ কল ড্রপ, বাফারিং বা সিগন্যাল সমস্যার মতো বিষয়গুলো অনেকটাই কমে যেতে পারে।এছাড়া স্মার্ট রেডিও প্রযুক্তি ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক শুধু ডেটা পাঠাবে না, বরং আশেপাশের পরিবেশও বিশ্লেষণ করতে পারবে।
ক্লাউড ও হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিংয়ের সমন্বয়
৬জি নেটওয়ার্ক মূলত ক্লাউড-ভিত্তিক হবে। এতে থাকবে উন্নত AI অ্যালগরিদম ও উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটিং সিস্টেম।এই তিনটি মূল উপাদান—সংযোগ, সেন্সিং এবং কম্পিউটিং—একসঙ্গে কাজ করে দ্রুত ও স্থিতিশীল নেটওয়ার্ক তৈরি করবে।
বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও যুক্ত
এই কনসোর্টিয়ামে বিশ্বের একাধিক বড় প্রযুক্তি কোম্পানি অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে Samsung, Google, Microsoft এবং Meta Platforms।এই সংস্থাগুলি একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি আন্তর্জাতিক মান তৈরি করতে চায়, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬জি প্রযুক্তি একইভাবে কাজ করতে পারে।
সাধারণ মানুষের জীবনে কী বদল আনবে ৬জি
৬জি প্রযুক্তি শুধু স্মার্টফোনের ইন্টারনেটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।এটি স্মার্ট ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট, বড় আকারের ডেটা বিশ্লেষণ, উন্নত AI সিস্টেম এবং স্বয়ংক্রিয় যানবাহন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ভবিষ্যতে ড্রোন ডেলিভারি বা উড়ন্ত ট্যাক্সির মতো প্রযুক্তিও ৬জি নেটওয়ার্কের সাহায্যে আরও উন্নত হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে ৫জি পরিষেবা চালু হলেও ইতিমধ্যেই ৬জি প্রযুক্তি নিয়ে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। Qualcomm একটি নতুন কনসোর্টিয়াম গঠন করেছে, যার লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে ৬জি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা। এই উদ্যোগে ভারতের Reliance Jio ও Bharti Airtel-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থা যুক্ত হয়েছে।









