উত্তর প্রদেশে ৪০ বছর পুরোনো ভাই হত্যা মামলায় ৮২ বছরের দোষীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ বহাল

উত্তর প্রদেশের প্রায় ৪০ বছর পুরোনো এক ভাই হত্যা মামলায় ৮২ বছর বয়সী দোষীর বয়সজনিত অব্যাহতির আবেদন হাই কোর্ট খারিজ করেছে। নিম্ন আদালতের আদেশে হস্তক্ষেপের পর্যাপ্ত ভিত্তি না পাওয়ায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দোষীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উত্তর প্রদেশে ৪০ বছর পুরোনো ভাই হত্যা মামলায় ৮২ বছরের দোষীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ বহাল
Photo Credit / Attribution: Google

উত্তর প্রদেশে প্রায় চার দশক পুরোনো এক হত্যা মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। নিজের ভাইকে হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত ৮২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে প্রায় ৪০ বছর পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বয়স ও অন্যান্য ভিত্তিতে দণ্ড থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

মামলাটি কয়েক দশক আগে সংঘটিত একটি পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিজের ভাইকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। মামলার শুনানি বিভিন্ন বিচারিক স্তরে দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে। নিম্ন আদালতের রায়ের পর অভিযুক্ত হাই কোর্টে স্বস্তি চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানির সময় অভিযুক্তের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁর বয়স বর্তমানে ৮২ বছর এবং ঘটনারও প্রায় ৪০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। তাই মানবিক কারণে তাঁকে দণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, প্রসিকিউশন আদালতে জানায়, গুরুতর ফৌজদারি মামলায় শুধুমাত্র বয়স বা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া দণ্ড থেকে অব্যাহতির ভিত্তি হতে পারে না।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং উপলব্ধ নথিপত্র পর্যালোচনা করার পর হাই কোর্ট অভিযুক্তের অব্যাহতির আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। আদালত জানায়, নিম্ন আদালতের আদেশে হস্তক্ষেপ করার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি এই মামলায় নেই। এরপর দোষীকে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হত্যা-সহ গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় আদালত উপলব্ধ প্রমাণ, প্রযোজ্য আইনগত বিধান এবং মামলার তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কেবলমাত্র অধিক বয়স বা দীর্ঘদিন মামলা বিচারাধীন থাকা নিজেই দণ্ড বাতিলের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় না, যদি না আইনের অধীনে বিশেষ পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই রায়ে আরও প্রতিফলিত হয়েছে যে, গুরুতর ফৌজদারি মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলেও আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এবং আইন অনুযায়ী আদেশ কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আদালত প্রতিটি মামলার সিদ্ধান্ত তার নিজস্ব তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রহণ করে।

হাই কোর্টের আদেশের পর দোষীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ভবিষ্যতে অন্য কোনো আইনগত প্রতিকার গ্রহণ করতে চাইলে, তিনি আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা এই আলোচিত মামলায় রায়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a comment