মধ্যপ্রদেশ সরকার নির্মাণ শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের উচ্চশিক্ষা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ‘ভবন এবং অন্যান্য সন্নির্মাণ শ্রমিক শ্রী মেধা ছাত্র উন্নয়ন যোজনা’ চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ₹৭,৫০০ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কোচিং, হোস্টেল এবং উচ্চশিক্ষার খরচেও সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ সরকার নির্মাণ শ্রমিকদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে নতুন বৃত্তি প্রকল্প চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘ভবন এবং অন্যান্য সন্নির্মাণ শ্রমিক শ্রী মেধা ছাত্র উন্নয়ন যোজনা’র খসড়া তৈরি হয়েছে এবং এটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির জন্য পাঠানো হবে। সরকার চলতি বছরেই প্রকল্পটি কার্যকর করার প্রস্তাব করেছে।
শ্রমমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেলের মতে, ভবন সন্নির্মাণ বোর্ড এবং শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের বৈঠকে শ্রমিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপরই এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ₹৭,৫০০ সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থ কোচিং ফি, যাতায়াত এবং পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা যাবে।
প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শ্রমমন্ত্রীর মতে, ভবন সন্নির্মাণ বোর্ড থেকে ৫০০ জন এবং শ্রমিক কল্যাণ বোর্ড থেকে ১০০ জন শিশুকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত বিধান অনুযায়ী প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বেছে নেওয়া হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ের ফল ভালো হলে ভবিষ্যতে কাট-অফ এবং উপভোক্তার সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।
প্রকল্পের সুবিধা সব নির্মাণ শ্রমিকের সন্তান পাবে না। এর জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীর মা বা বাবার সংশ্লিষ্ট মণ্ডলে নিবন্ধিত নির্মাণ শ্রমিক হওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি নির্ধারিত সময় ধরে শ্রমিকের নিবন্ধন থাকা এবং অন্তত ৯০ দিন কাজ করার রেকর্ডও প্রয়োজন হবে।
![]()
শিক্ষার্থীকে দশম শ্রেণিতে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। মধ্যপ্রদেশ বোর্ড এবং সিবিএসইর শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত মেধাতালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। প্রকল্পে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হবে এবং ২০ শতাংশ আসন ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
প্রকল্পে নির্বাচিত হওয়ার পরও সহায়তা অব্যাহত রাখতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নির্ধারিত ফল বজায় রাখতে হবে। দ্বাদশ শ্রেণিতে কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক হবে। এর পাশাপাশি পরবর্তী সুবিধা পেতে প্রতি বছর সময়মতো অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
প্রকল্পটির উদ্দেশ্য এমন শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া, যারা পড়াশোনায় ভালো ফল করছে, কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির খরচের কারণে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা শুধু মাসিক আর্থিক সহায়তাই পাবে না, উচ্চশিক্ষার সময় বিভিন্ন শিক্ষাগত খরচেও সহায়তা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এর মধ্যে টিউশন ফি, বই, হোস্টেল এবং অন্যান্য শিক্ষাগত খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর পাশাপাশি NEET, JEE এবং CLAT-এর মতো প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং ফিতেও সহায়তা দেওয়া হবে। এর উদ্দেশ্য শ্রমিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের উন্নত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া।
বর্তমানে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রকল্পটি শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। সম্মিলিত মেধাতালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। ফলে শুধু যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলেই কোনও শিক্ষার্থীর প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত হবে না।
শ্রমমন্ত্রী প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার কথা বলেছেন। প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলে ভবিষ্যতে উপভোক্তার সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে।









