মতুয়া আন্দোলনে মোড় ঘোরালেন অভিষেক, পিছনে পড়লেন সুজন-অধীর

মতুয়া আন্দোলনে মোড় ঘোরালেন অভিষেক, পিছনে পড়লেন সুজন-অধীর

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অনশন সমাধান: রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত মতুয়া আন্দোলনের অনশন মঞ্চে বিরোধী পক্ষের পর তৃণমূলের প্রবেশেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরবাড়িতে, যেখানে এসআইআর-এর প্রতিবাদে একাংশ মতুয়া আমরণ অনশনে বসেছিলেন। ১৭ নভেম্বরের ঘটনা অনুযায়ী সুজন চক্রবর্তী ও অধীর চৌধুরী অনশন মঞ্চে গেলেও কোনও সমাধান আসেনি। কিন্তু তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠি পৌঁছানোর পর মতুয়া মহাসংঘ সন্ধেবেলাই অনশন প্রত্যাহার করে নেয়। কেন এই বদল, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা।

মতুয়া আন্দোলনের মাঝেই রাজনৈতিক উত্তেজনা

মতুয়া সমাজের একাংশ এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে নতুন নিয়ম আসলে অনেক মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। এর প্রতিবাদে ঠাকুরবাড়ির বড়মার ঘরের সামনে অনশন শুরু হয়।অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে শুরু করে। বাম-কংগ্রেস নেতারা প্রথমে যান এবং মতুয়াদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি কোনও দিকে এগোয়নি বলেই জানা গেছে।

সুজন-অধীরদের উপস্থিতিতে সমাধান মিলল না

বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী অনশনস্থলে গিয়ে মতুয়াদের বক্তব্য শোনেন। তাঁরা জানান, এসআইআর নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে মতুয়ারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেই বিষয়ে তাঁরা চাপ দেবে।তবে অনশনকারীরা কোনও ইতিবাচক নিশ্চয়তা না পাওয়ায় অবস্থান জারি রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে রাজনৈতিক সমষ্টির হস্তক্ষেপে খুব একটা ফল পাওয়া যায়নি।

অভিষেকের চিঠিতেই মোড় ঘোরাল সমীকরণ

পরিস্থিতিতে হঠাৎ বদল আসে যখন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই মতুয়া নেত্রী মমতাবালা ঠাকুরের সঙ্গে কথা বলে নিজের প্রতিশ্রুতি জানান। এরপর তাঁর চিঠিটি অনশন মঞ্চে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে মতুয়া মহাসংঘ সন্ধেবেলায় অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে।তৃণমূল কর্মীরা চিঠি নিয়ে মঞ্চে পৌঁছতেই মতুয়াপক্ষ আশ্বস্ত হন যে তাঁদের উদ্বেগ নিয়ে সরকার সরাসরি উদ্যোগ নেবে।

তৃণমূলের রাজনীতিতে বাড়ল অভিষেকের গুরুত্ব?

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপই কি অনশন ভাঙানোর প্রধান কারণ? বিরোধীরা যে জায়গায় ব্যর্থ, সেখানে অভিষেক সফল হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক বরাবরই বাংলার নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই সিদ্ধান্ত ২০২৬-এর নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

মতুয়াদের এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া অনশনের মাঝেই পরিস্থিতি পাল্টে দিল তৃণমূলের হস্তক্ষেপ। সুজন চক্রবর্তী ও অধীর চৌধুরীর উপস্থিতিতেও যেখানে সমাধান আসেনি, সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা পৌঁছাতেই মতুয়া মহাসংঘ অনশন প্রত্যাহার করে। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ল অভিষেকের প্রভাব।

Leave a comment