অধিক মাস ২০২৬: জ্যৈষ্ঠ মাসে পুরুষোত্তম মাস, গুরুত্ব ও করণীয়-বর্জনীয়

অধিক মাস ২০২৬: জ্যৈষ্ঠ মাসে পুরুষোত্তম মাস, গুরুত্ব ও করণীয়-বর্জনীয়

২০২৬ সালে জ্যৈষ্ঠ মাস চলাকালীন অধিক মাস থাকবে, যা ১৭ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে সম্পাদিত ধর্মীয় কর্ম, ব্রত এবং পূজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়। অধিক মাস বছর এবং ঋতুগুলির মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় এবং বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, নামকরণ ইত্যাদির মতো মাঙ্গলিক কাজগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অধিক মাস: ২০২৬ সালে ১৭ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত অধিক মাস থাকবে, যা জ্যৈষ্ঠ মাসে পড়বে। বিক্রম সংবত পঞ্জিকা অনুযায়ী এটি ১৩ মাসের একটি বিরল বছর হবে। এই সময়ে জপ-তপ, দান, বিষ্ণু পূজা এবং তীর্থযাত্রার মতো ধর্মীয় কাজগুলি বিশেষ গুরুত্ব রাখে। অন্যদিকে, বিবাহ, গৃহপ্রবেশ এবং নতুন ব্যবসা শুরুর মতো মাঙ্গলিক কাজগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অধিক মাসের উদ্দেশ্য হল বছর এবং ঋতুগুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, যা ধর্মীয় ও সামাজিক জীবন উভয়কেই ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

অধিক মাস ২০২৬ কখন থাকবে?

বিক্রম সংবত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০৮৩ সালে ১৩ মাস হবে। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে, অধিক মাস ২০২৬ সালে ১৭ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত থাকবে। অর্থাৎ, জ্যৈষ্ঠ মাস চলাকালীনই অধিক মাস থাকবে। এই সময়ে জপ-তপ, বিষ্ণু জির পূজা, তীর্থযাত্রা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অধিক মাসে সম্পাদিত কর্ম বহু গুণ ফলপ্রসূ হয়। এটিকে পুণ্য এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন পুরাণে এই মাসে সম্পাদিত ধর্মীয় কর্ম ও ব্রতগুলির গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অধিক মাস কেন হয়?

হিন্দু পঞ্জিকায় বছর এবং মাসগুলির গণনা সূর্য ও চন্দ্রের উপর ভিত্তি করে করা হয়। সৌর বছর এবং চান্দ্র বছরের মধ্যে প্রতি তিন বছরে পার্থক্য দেখা যায়। সৌর মাসের ৩২ মাসের তুলনায় চান্দ্র মাস ৩৩ মাসের হয়ে যায়। এই পার্থক্য দূর করার জন্য অধিক মাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঋষি-মুনিরা বহু বছর আগে এটিকে এমনভাবে প্রয়োগ করেছিলেন যাতে বছর এবং ঋতুগুলির মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। যদি অধিক মাস না থাকত, তবে শ্রাবণ কখনও শীতকালে আসত, কখনও গ্রীষ্মকালে। একইভাবে, হোলি এবং অন্যান্য উৎসবগুলি ঋতু অনুযায়ী সঠিক সময়ে পালন করা যেত না।

অধিক মাস যুক্ত বছর এই কারণেও গুরুত্বপূর্ণ যে এটি ১৩ মাসের একটি বছর তৈরি করে। এটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশেষ বলে বিবেচিত হয়, কারণ এই সময়ে সম্পাদিত ধর্মীয় কর্মের ফল বহু গুণ বৃদ্ধি পায়।

অধিক মাসের ধর্মীয় গুরুত্ব

ধর্মীয় গ্রন্থ অনুসারে, অধিক মাসে সম্পাদিত ব্রত ও পূজার গুরুত্ব সাধারণ মাসের চেয়ে বহু গুণ বেশি হয়। এই মাসে বিষ্ণু জির আরাধনা এবং ভক্তির কাজগুলি বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করা হয়।

  • জপ ও তপ: এই সময়ে সম্পাদিত জপ ও তপের ফল দীর্ঘস্থায়ী হয়।
  • দান ও সেবা: দরিদ্র ও অভাবীদের দান করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
  • পূজা-পাঠ: বিষ্ণু, গণেশ এবং দেবী-দেবতাদের পূজা করার ফল বিশেষ বলে মনে করা হয়।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অধিক মাসে তীর্থযাত্রা করাও একটি পুণ্যের কাজ। যাত্রার সময় সম্পাদিত দান ও সেবার ফল সাধারণ মাসের তুলনায় বেশি বলে মনে করা হয়।

অধিক মাসে এগুলি এড়িয়ে চলুন

যদিও অধিক মাস পুণ্যের সময়, তবে কিছু মাঙ্গলিক এবং শুভ কাজ এই সময়ে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটিকে মলমাস বলা হয় এবং এটি শুভ কাজের জন্য অনুকূল বলে বিবেচিত হয় না।

  • বিবাহ এবং বিবাহ সম্পর্কিত অনুষ্ঠান
  • গৃহপ্রবেশ, বাড়ি ক্রয় বা নতুন জমি ক্রয়
  • যজ্ঞোপবীত সংস্কার এবং নামকরণ
  • কোনো নতুন ব্যবসা বা কাজের সূচনা

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অধিক মাসে এই কাজগুলি করলে শুভতা প্রভাবিত হতে পারে। তাই, লোকেরা এই কাজগুলি অধিক মাস শেষ হওয়ার পর করার পরিকল্পনা করে।

অধিক মাস এবং জীবনধারা

অধিক মাসে জীবনযাত্রায়ও কিছু পরিবর্তন আনা হয়। অনেক লোক এই সময়ে নিরামিষ আহার গ্রহণ করে এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বেশি সময় দেয়। বাড়ি ও মন্দিরগুলিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পূজার বিশেষ গুরুত্ব থাকে।

ধর্মীয় গ্রন্থ অনুসারে, অধিক মাসে জীবনের সাধারণ কার্যকলাপগুলিতেও সংযম রাখা উচিত। এই মাসটি আত্মসংযম, পুণ্য কর্ম এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হিসাবে বিবেচিত হয়।

২০২৬ সালের অধিক মাস এবং সামাজিক গুরুত্ব

কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অধিক মাসের গুরুত্ব রয়েছে। এটি পরিবার এবং সমাজে সম্প্রীতি ও মেলবন্ধন বাড়ানোর সময়। এই সময়ে লোকেরা উৎসব, ব্রত এবং দানের মাধ্যমে তাদের সামাজিক কর্তব্য পালন করে।

এছাড়াও, অধিক মাসের কারণে বছরের উৎসব এবং ঋতুগুলির সময় সঠিক থাকে। হোলি, দীপাবলি এবং শ্রাবণের মতো উৎসবগুলি সঠিক ঋতুতে পালন করা হয়। এইভাবে, অধিক মাস কেবল ধর্মীয় নয়, সামাজিক এবং আবহাওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকেও অপরিহার্য।

Leave a comment