প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ভারত সর্বদা বৈশ্বিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান অনুসন্ধান করাই ভারতের স্থায়ী পররাষ্ট্র নীতির অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের সমাধান শান্তি ও সমঝোতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধ ও সংঘাত নিরসনে ভারত ধারাবাহিকভাবে সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমষ্টিগত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতাই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর পথ।
প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থাকে বৈশ্বিক পরিসরে একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি শুধু ভারতের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকি। তিনি অভিন্ন বৈশ্বিক উদ্বেগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের হুমকির মোকাবিলায় সকল দেশের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যৌথ পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের বিস্তৃত পররাষ্ট্র নীতির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত সর্বদা শান্তির সমর্থক। তিনি বলেন, যখন দুটি গণতন্ত্র একসঙ্গে অবস্থান করে, তখন শান্তির আহ্বান আরও জোরালো হয়। তিনি জানান, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে সওয়াল করে এসেছে এবং বৈশ্বিক সংঘাতে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিবর্তে সমাধানের পথে কাজ করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর সরকার নিবিড় নজর রাখছে। তিনি আশ্বাস দেন যে অঞ্চলটিতে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পরপরই আসে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বৈশ্বিক পরিসরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ভারত একে গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সময়ে শান্তি ও সংলাপই সমাধানের পথ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সকল দেশকে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ ধরনের হুমকির মোকাবিলা করে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।









